তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির উলিপুরে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে   র‌্যালিও  আলোচনা সভা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শ্রীমঙ্গলে অনিবন্ধিত দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা সান্তাহারে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে সক্রিয় চোর দলের এক সদস্য গ্রেফতার সভাপতি আব্দুল মহিত তালুকদার, সাধারন সম্পাদক আবু হাসান নির্বাচিত রোববারের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা কুলাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার টেক্সাস স্কুল হামলা: দেরির জন্য ভুল স্বীকার পুলিশের ফুলবাড়ীতে সরকারি ভূমি দখলকারী আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের মানবন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন॥

কিংবদন্তী ‘কিংব্যাকের’ প্রস্থানের দিনে!

  • প্রকাশ শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৬.১৪ এএম
  • ৫১ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ মোনেম মুন্না- নামটার সাথে জড়িয়ে থাকা এক সমুদ্র আবেগ যেন আজও জীবন্ত ফুটবল পাগল বাঙালি জাতির কাছে। ওপারে গিয়েও আজও তিনি রয়ে গেছেন ফুটবল বাংলার ফুটবলের আকাশে জ্বলতে থাকা সবচেয়ে জলজ্বলে তারা হয়েই। বাংলাদেশ ফুটবলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশসেরা ডিফেন্ডার মোনেম মুন্নার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ক্ষণজন্মা এই কালজয়ী ফুটবলার ২০০৫ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে নিয়েছিলেন চিরবিদায়। ফুটবলের মাঠে বিপক্ষের কোনো ফরোয়ার্ড তাকে কোনোদিন হারাতে পারেননি। জীবনের মাঠে মুন্নাকে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে দিয়েছিলো কিডনির জটিল এক সমস্যা। তারকা অনেকই আসে ফুটবলের আকাশে। তবে মহাতারকা? সে আসে কালে কালে হাতের আঙ্গুল গুনে। মোনেম মুন্না ছিলেন বাংলার লাল সবুজের ফুটবলের আকাশে তেমনই এক মহাতারকা। ১৯৬৬ সালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জন্ম নেন বাংলার ‘কিংব্যাক’ খ্যাত এই কিংবদন্তী। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই শুরু করেছিলেন পেশাদার ফুটবল খেলা। ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার ফুটবল লিগ দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলার সেরা এই ডিফেন্ডারের। ১৯৮৪ সালেই নাম লেখান পেশাদার লিগে। মুক্তিযোদ্ধা আর ব্রাদার্স ইউনিয়ন ঘিরে মুন্না ঘর গড়েন ধানমন্ডির ক্লাব আবাহনীতে। পেশাদার জীবনের প্রায় পুরোটা সময়েই খেলেছেন আকাশী নীলের আবাহনী শিবিরে। আবাহনীর নামের সাথে তো সমার্থকই হয়ে গিয়েছিলো মুন্নার নামটা। আবাহনী সমর্থকরা ভালোবেসে তাকে ডাকতেন ‘কিংব্যাক’ বলে। একজন ডিফেন্ডার হয়েও ঢাকার মাঠে ১৯৯১ সালে ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেয়ে গড়েছিলেন সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের রেকর্ড। মুন্না শুধু এপার বাংলারই না, ছিলেন ওপার বাংলারও। কোচ নঈমুদ্দিনের ডাকে ১৯৯১-১৯৯৩ সালে দুই মৌসুম খেলেছেন পশ্চিমবঙ্গের ইস্ট বেঙ্গলে। লাল হলুদের ভক্ত সমর্থকদের কাছেও মুন্না ছিলো সবার প্রিয় এক নাম। এপার বাংলার চেয়ে ওপার বাংলায় মুন্নার জনপ্রিয়তা কোনো অংশে কম তো ছিলোই না, বরং কিছু ক্ষেত্রে ছিলো অনেক বেশি। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে আজও জ্বলজ্বল করে কিংব্যাক মুন্নার ছবি। ক্লাব ফুটবল ছাপিয়ে জাতীয় দলের মুন্না যেন ছিলো আরও বেশি জ্বলজ্বলে এক তারকা। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে নামেন মুন্না। চার বছর না পেরোতেই ১৯৯০ সালেই বেইজিং এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নেতৃত্বও ওঠে মুন্নার কাঁধে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাও এই মুন্নার হাত ধরেই।

১৯৯০ সালের বেইজিং এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নেতৃত্ব পাওয়া মুন্না। ছবি- সংগৃহীত ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হওয়া চার জাতি টুর্নামেন্টে এই মুন্নার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মত কোন আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। মোনেম মুন্নার প্রতিভা বোঝানোর জন্য জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের একটি উক্তিই যথেষ্ট। তৎকালীন বাংলাদেশের গড়পড়তা সব ফুটবলাদের ভেতরেও মুন্না ছিলেন অনন্য প্রতিভার অধিকারী। মুন্নার সেই অবিশ্বাস্য প্রতিভাতেই মুগ্ধ হয়ে অটো ফিস্টার বলেছিলেন, “He was mistakenly born in Bangladesh.” বাংলার ফুটবল আকাশের এই মহাতারকা ১৯৯৯ সালের রমজান মাসে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সিঙ্গাপুর চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেই ধরা পড়ে কিডনির জটিল সমস্যা। সেখান থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসলেও একবার বাসা বাঁধা অসুখটা আর ছেড়ে যায়নি মুন্নার শরীর। ২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মুন্না। প্রায় সপ্তাহ তিনেক মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১২ ফেব্রুয়ারি কিংব্যাক মুন্না হার মানেন মৃত্যুর কাছে। কিডনির সমস্যায় পড়ে অকালেই হারিয়ে যেতে না হলে আজও হয়তো মুন্না এদেশের ফুটবলকে দিতে পারতেন অনেক কিছুই। কিংবদন্তী এই কিংব্যাকের না থাকাটা তো আক্ষেপে পোড়ায় ফুটবল পাগল এই জাতির সকল ফুটবলপ্রেমীদের। তবে মুন্না আছেন, না থেকেও তিনি রয়ে গেছেন এসব ফুটবল পাগলাদের মনে। ফুটবলের সবুজ গালিচায় না খেলুক, বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মনের চিলেকোঠায় আজও ফুটবল পায়ে ছন্দ তোলেন মোনেম মুন্নারা।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam