তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

রাবিতে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে না পারা প্রদীপ এর পাশে দাঁড়ালেন জেলা প্রশাসক

  • প্রকাশ মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ৩.২৬ পিএম
  • ৪২ বার ভিউ হয়েছে

সাজু মিয়া (শিবগঞ্জ) বগুড়া প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভূমিহীন পরিবারের সদস্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রদীপ কুমার। সেই সংবাদ অনলাইন দৈনিক পত্রকিার নাম বসে নবিনে পত্রিকায় প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের। পরে তার পাশে দাঁড়ান জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রদীপকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন তিনি। প্রদীপ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের দোপাড়া হিন্দু পাড়া গ্রামের ধলু চন্দ্র ও রুলি বালার ছেলে। জানা যায়, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান প্রদীপ কুমার ২০২০-২১ শিা বর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিট ভর্তি পরীায় অংশ নিয়ে ভর্তি সুযোগ পায়। প্রদীপ ৪ বছরের মাথায় পা রাখলে তার পিতা-মাতার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মা রুলি বালা অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে তাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। প্রদীপের নিজস্ব কোন জায়গা বাড়ি না থাকায় সরকার কর্তৃক প্রদেয় টিনের ছাপড়া ঘরে মা ও ছেলে বসবাস করে। প্রদীপ ২০১২ সালে দোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীা দিয়ে জিপিএ ৫ পায়। তার মেধার কারণে তাকে গ্রামের সাধারণ মানুষরা সহযোগিতা করে দোপাড়া আব্দুল হান্নান উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়। প্রদীপ তার মায়ের কষ্ট ও নিজের স্বপ্ন পুরণে শক্ত মনোবলে পড়ালেখা চালিয়ে যায়। ২০১৫ সালে দোপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়। প্রদীপ পাড়াপ্রতিবেশীর সহযোগিতা নিয়ে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে এ ভর্তি হয়। সেখানেও সে ২০২০ সালে জিপিএ ৫ অর্জন করে। ২০২০-২১ শিা বর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সি ইউনিটে ভর্তি পরীায় অংশ নিয়ে ভর্তির জন্য সুযোগ পায়। এব্যাপারে শিার্থী প্রদীপের মা রুলি বালা বলেন, আমার অসহায় ও গরীব মানুষ আমার ছেলের বয়স জন ৪ বছর, তখন থেকেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমার সন্তানকে লেখাপড়া করিয়েছি। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত। কিন্তু আমার ছেলেকে অর্থের অভাবে ভর্তি করাতে পারছি না। প্রদীপ কুমার বলেন, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে ভর্তি সুযোগ পেয়েছে, তার এই কৃতিত্বের জন্য তার শিকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সে বলে তার শিকরা যদি তার পাশে থেকে আর্থিক সহযোগিতা না করতো তাহলে আজকের এই সাফল্য সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারি তার ভর্তি শেষ সময় তার বর্তমানে সে অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। তাই সে সমাজের বৃত্তবানদের কাছে ভর্তির জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রদীপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশ রায় নিজেকে নিয়োজিত করবে বলে জানিয়েছেন। প্রদীপ ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সময় সেরাপাঠক হিসাবে পুরুস্কৃত হয়েছে। ২০১৫ সালে উপজেলা পর্যায়ে সে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ক(৬ষ্ঠ-৮ম) গ্রুপে গণি ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং ২০১৭ সালে গণিত ও কম্পিউটা বিষয়ে ২য় বারের মত উপজেলা পর্যায়ে খ গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam