তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
সদ্য সংবাদ :

মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পাথর উৎপাদন বন্ধ

  • প্রকাশ রবিবার, ১৩ মার্চ, ২০২২, ৮.৫৭ এএম
  • ৫৩ বার ভিউ হয়েছে

সোহেল সানী। পাথর উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) সংকটে পড়ে দেশের একমাত্র দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর উৎপাদন বন্ধ গেছে। ফলে প্রায় ৭ শতাধিক খনি শ্রমিককে ছুটি দেয়া হয়েছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন সরকারের লোকসান হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। গত শনিবার সকাল থেকে খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মাানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। চুক্তি অনুযায়ী খনির উন্নয়ন, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাহিদামত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিষ্ফোরক সরবরাহ করার কথা গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃপক্ষের। কিন্তু খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (জিটিসি) কে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় বিষ্ফোরক সরবরাহ করতে না পারায় খনির উন্নয়ন ও পাথর উৎপাদন কাজে বতর্মান সংটের সৃষ্টি হয়েছে।
খনি সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, পাথর উত্তোলন কাজের জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। চুক্তি অনুযায়ী খনি কর্তৃপক্ষ সময়মত জিটিসিকে চাহিদা মাফিক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ করবে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে খনি কর্তৃপক্ষ (এমজিএমসিএল) জিটিসিকে চুক্তি মোতাবেক সময়মত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ করতে পারেনি। খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের তাগাদা সত্বেও গত ২১ অক্টোবর থেকে যথাযত সহযোগিতার অভাবে বর্তমান এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। খনি সুত্রে জানা গেছে- দেশে তিন দফায় তা আসবে বিষ্ফোরক। প্রথম দফায় আগামী ২২-২৩ মার্চ ৮৮ মেট্রিক টন বিষ্ফোরক নিয়ে একটি জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে পৌছার কথা রয়েছে। খালাসের পর তা চট্রগ্রাম থেকে মধ্যপাড়া খনিতে আসতে আরও সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে। আগামী ৩১ মার্চ আরেকটি জাহাজে আসবে ৮৮ মেট্রিক টন বিষ্ফোক নিয়ে। সর্বশেষ এপ্রিলের মধ্যে আসবে আরও ৬৬ মেট্রিক টন বিষ্ফোরক। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে রেলওয়েতে সরবরাহের জন্য ৪০-৬০ সাইজেরসহ ডাস্ট ও বোল্ডার মিলে ৬০ হাজার মেট্রিক টনের মতো পাথর মজুদ রয়েছে। খোলা বাজারে বিক্রি করার মত মজুদ না থাকায় পাথর বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
সুত্র আরও জানায়- খনি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও কর্মদক্ষতার অভাবে সময়মত বিস্ফোরক সরবরাহ না করায় দৈনিক গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন সরকারের লোকসান হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও সরকারী উন্নয়ন কাজে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ পাথর সংকটে পড়ে চলমান নির্মাণ কাজ ব্যাহত হবে বলে শংকা সংশ্লিষ্ট সুত্রের। অন্যদিকে, পাথর আমদানী করে সংকট মোকাবেলা করতে গেলেও সরকারের বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে। তবে, কবে নাগাদ আমাদানীকৃত এই বিস্ফোরক দেশে এসে পৌঁছাবে এর সঠিক কোন দিনক্ষনও বলতে পারছেন না খনি কর্তৃপক্ষ। খনি উন্নয়ন এবং উৎপাদন কাজ দির্ঘদিন বন্ধ থাকলে উৎপাদন কাজে মেশিনারিজ এবং যন্ত্রাংশ অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকার কারনে নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন খনি বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, খনির বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি মধ্যপাড়া পাথর খনির দায়িত্বভার গ্রহনের প্রথম মেয়াদে খনি উন্নয়ন এবং পাথর উত্তোলন কাজের জন্য চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় বিদেশী মেশিনারিজ এবং যন্ত্রাংশ খনি কর্তৃপক্ষ যথা সময়ে আমদানী করে তাদেরকে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তির ৬ বছর মেয়াদকালে খনির উৎপাদন ও উন্নয়ন কাজ প্রায় ৩ বছর বন্ধ থাকে। ফলে, পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হয়। খনির রক্ষণাবেক্ষণ সচল রাখতে জিটিসিকেও কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়। চুক্তি অনুযায়ী এই সকল বিদেশী মেশিনারিজ এবং যন্ত্রাংশ খনি কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করার কথা।
এব্যপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (আন্ডার গ্রাউন্ড অপারেশন ও মাইনিং) মোঃ আবু তালেব ফরাজী কে বলেন, বিষ্ফোরকগুলো আমদানী করা হয় কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে। আগামী ২২-২৩ মার্চ প্রথম দফায় ৮৮ মেট্রিক টন বিষ্ফোরক নিয়ে একটি জাহাজ চট্রগ্রাম বন্দরে পৌছার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে এপ্রিল মাসেই ২৪২ মেট্রিক টন খনিতে আসবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam