তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আলোচনা সভা ও বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা

  • প্রকাশ রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০২২, ৪.০০ পিএম
  • ২৬ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আজ ২৭ মার্চ রবিবার বিকাল ৩ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অডিটোরিয়ামে “মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্র ভারতের অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক” আলোচনা সভা ও বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

 

 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, রাশেক রহমান, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

 

আলোচনা সভার শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী ও ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। অনলাইন গুজব প্রতিরোধ ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ২৫ জন নেতাকর্মীকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ল্যাপটপ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি।

 

 

আলোচনা সভার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভারতের সহযোগিতার কারণে আমরা খুব সহজেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে পেরেছিলাম। একাত্তর সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পর্যাপ্ত ট্রেনিং, অস্ত্র ও এককোটি শরণার্থীকে খাবার, আশ্রয় দিয়ে ভারত সহযোগিতা করেছিল। দুঃসময়ের এই ঋণ  আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না। বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক রক্ত দিয়ে লেখা। মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আজ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সম্মাননা দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

 

 

ভারতের মান্যবর হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশগুলোর মধ্যে অসাধারণ যোগসূত্র। মহান এই জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় চরম কষ্ট সহ্য করেছেন। বর্তমান প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের অবদানের জন্য চিরঋণী। এই উপলক্ষ্যে, স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী উভয় দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের আত্মা শান্তিতে থাকুক। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিই ও সম্মান করি। গভীর শ্রদ্ধার সাথে, আমরা স্মরণ করি যে ভারত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল। বন্ধুরা, গত বছর আমরা মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশতম বার্ষিকী এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করেছি। যখন বাংলাদেশের কথা আসে, আমাদের সম্পর্কটি ভিত্তি করে একই ধরণের ইতিহাস, ভাষা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের উপর।  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনন্য বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সৈনিকদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় যোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁদের বাংলাদেশী ভাই ও বোনদের সাথে তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় আমাকে আমন্ত্রণ করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ভারত সরকার কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হচ্ছে যা অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, “দীর্ঘ ৯ মাস কঠিন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম সফল করতে সবচেয়ে যিনি বেশি ভূমিকা রেখেছেন তাঁর নাম ইন্দিরা গান্ধী। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ভারতের জনগণ সর্বোপরি ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অপরিসীম। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রাজপথে মোকাবিলা করার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধে অনলাইনেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদেরকে অতীতের ন্যায় সামনের দিনগুলোতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

 

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি বলেন, “২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেদিন রাতে পিলখানা, রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। এ সংবাদ দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণের ভয়ে বহু মানুষ সীমান্ত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঢুকে পড়ে। ইন্দিরা গান্ধী সরকার এ সময় সীমান্ত খুলে দেয়, যাতে নিরীহ মানুষ আশ্রয় নিতে পারে। প্রায় দুই কোটি শরণার্থী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয়। সহায়-সম্বল সব ফেলে ভারতে পাড়ি দেওয়া এসব শরণার্থীর সব দায়-দায়িত্ব পড়ে ভারত সরকারের ওপর। বাঙালির এই চরম দুঃসময়ে শুধু সহযোগিতাই নয়, মায়ের ভালোবাসায় সকল শরণার্থীদের আগলে রাখেন মমতাময়ী মহীয়সী ইন্দিরা গান্ধী। এরপর ক্রমান্বয়ে এগিয়ে আসে সর্বশ্রেণীর মানুষ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে।”

 

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেন, “ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি শুধু এই উপমহাদেশেরই নন বরং গোটা বিশ্বের অগ্রগণ্য রাজনীতিবিদদের একজন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে সত্যিকারের বন্ধুর পরিচয় দেন তিনি।”

 

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে অনেক দেশই এটাকে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানের যুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে। এ সময় ইন্দিরা গান্ধীর বিশ্ব মিডিয়ায় দেয়া বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ায় এর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের করা যুদ্ধকে বাকি সব দেশ গৃহযুদ্ধ হিসেবেই দেখতে চেয়েছে। শুরু থেকেই কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও রাষ্ট্রপ্রধানরাও সেভাবেই বিশ্লেষণ করছিলেন। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী ততদিনে পূর্ব পাকিস্তান নয়, পূর্ব বাংলা বলে সম্বোধন করছিলেন।”

 

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন বলেন, ” মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের সামনে ভারতের অবদান সঠিক ভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী ও ভারতের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্যদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা অনেক গর্বিত। ২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যার পর ২৭ মার্চ ভারতের লোকসভায় ভাষণ দিয়ে করণীয় তুলে ধরেন তিনি। ৩১ মার্চ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রস্তাব লোকসভায় উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদকে সাক্ষাৎকার দেন ইন্দিরা গান্ধী। ৭ এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য আশ্রয় ও রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার সুযোগসহ সার্বিক সাহায্য করার আশ্বাস পুনঃব্যক্ত করেন তিনি। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানীদের গণহত্যার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। পাকিস্তানী হত্যাযজ্ঞ বাড়তে থাকায় ভারতে শরণার্থীও বাড়তে থাকে। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারতের পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। মে মাসে বেলগ্রেডের বিশ্বশান্তি কংগ্রেসে ভারতীয় প্রতিনিধিরা ইন্দিরা গান্ধীর বাণী পাঠ করেন। বাণীতে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন প্রসঙ্গে প্রায় ৮০টি দেশের প্রতিনিধি করতালি দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে। ৮ আগস্ট বিশ্বের সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কাছে ভারত সরকারের পাঠানো এক বার্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন রক্ষায় ও তাঁর মুক্তির দাবিতে ইয়াহিয়া খানের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান। বিশ্বব্যাপী তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সোচ্চার ছিলেন। তবুও তাঁর কণ্ঠে বাংলাদেশ শব্দটি শোনার অধীর আগ্রহ ছিল এ দেশবাসীর। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের বক্তব্য থেকে খুব সচেতনভাবে পূর্ব বাংলা শব্দটি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ উচ্চারণ করেন। আর ডিসেম্বরের ৬ তারিখ লোকসভার ভাষণে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।”

 

এবিএন

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam