তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

রাজের থেকেই নারীকে সম্মান করা শিখবে ইউভান: শুভশ্রী

  • প্রকাশ মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২, ৭.১২ এএম
  • ৫৯ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ  নারী দিবস প্রসঙ্গে টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী বলেছেন, রাজ মেয়েদের অসম্ভব সম্মান করে। আমি জানি ওর থেকেই ইউভান মেয়েদের সম্মান করার জায়গাটা বুঝবে।সোমবার আনন্দবাজার অনলাইনে শুভশ্রীর এক লেখা প্রকাশিত হয়। তাতে এই অভিনেত্রী যা বলেছেন তা পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো-

আমি নিজে খুব প্রগতিশীল পরিবারে বড় হয়েছি। আমার মা কোনও দিন বলেননি বিয়ে করতে হবে। বলতেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

চারদিকে নারী দিবসের তোড়জোড়। ভাবতে ভালোই লাগে। কিন্তু সব দিক কি সমানভাবে দেখা গেল? আজও নয়।

যে দিন রাজকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি এলাম, সেদিন থেকেই আমার শাশুড়ি বলে দিয়েছিলেন, ‘আমার ছেলে রাজ যখন রান্না ঘরে ঢোকে না, তুমিও কোনো দিন ঢুকবে না।’

উনি পরিবারে সমতা আনলেন।

অন্যদিকে ২০২২-এও দেখছি বাল্য বিবাহের সংখ্যা কমছে না। শুনতে তো পাই মেয়েদের পড়াশোনা নয়, কোথায় বিয়ে হল? সেটাই আসল কথা। খবরে সারাক্ষণ গার্হস্থ্য হিংসের ছবি। একটা টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান দেখেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯৬ শতাংশ অপরাধ ছেলেরা করে। এই পরিসংখ্যান নিয়ে এক জন মহিলা চমৎকার লেখা লিখেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন পিতৃতন্ত্র কীভাবে পুরুষদের ওপর নানা চাপ তৈরি করে। ছেলেকে যেমন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের দায়িত্ব নিতেই হবে। ছেলে হচ্ছে পরিবারে সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ। সে রোজগার করে সংসার চালায়। এই শক্তি কোথায় দেখাবে তারা? বাড়িতে মেয়েদের ওপরেই তখন সেই শক্তির প্রকাশ হয়।

আসলে এটা মানসিক অসুস্থতা বলেই আমি মনে করি। তবে এ ক্ষেত্রে কিন্তু মেয়েদের এগিয়ে আসতেই হবে। মেয়েদের নিজেদের লড়াই নিজেদেরই লড়তে হবে। স্বামী অন্যায় করলে চুপ করে থাকলে আর চলবে না। অন্যায় সহ্য করাও অপরাধ। নিজের জন্য কথা বলা, নিজের জন্য ভাবা বেশির ভাগ মেয়েরাই এই মানসিকতার বাইরে। বদলাতে হবে। এখনও মেয়েরা নিজেদের জন্য আলাদা করে ভাবতে পারে না।

প্রথমেই আমার পরিবারের কথা দিয়ে আমার লেখা শুরু করেছিলাম। কেন? তা খোলসা করে বলি।

রাজ মেয়েদের অসম্ভব সম্মান করে। আমি জানি ওর থেকেই ইউভান মেয়েদের সম্মান করার জায়গাটা বুঝবে। আমি নিজে খুব প্রগতিশীল পরিবারে বড় হয়েছি। আমার মা কোনও দিন বলেননি বিয়ে করতে হবে। বলতেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ভাল কাজ করতে হবে। যৌথ পরিবার থেকে বিয়ের জন্য যখন বলা হত, মা সে সব কানে তুলতেন না। সৌভাগ্যক্রমে আমার শাশুড়িও ঠিক এই মানসিকতার। আমি তো ওর জন্য রান্না করাই ভুলে গিয়েছি। উনি রাজের ওপরে আমায় রাখেন। রাজ পরিচালনা শুরু করল, তো উনি আমায় বলতে থাকবেন, ‘তুমি কবে কাজ শুরু করছ?’ উনি যে আমার কাজকে কী ভালবাসেন তা বলে বোঝাতে পারব না। আমি অনলাইনে জিম করলেও উনি সেটা বসে দেখেন। তারপর রাজ বাড়ি ফিরলে বলেন, ‘আজ ও যা যা করেছে না! ভাবতে পারবি না।’

ইউভানকে বলেন, ‘তুই কিন্তু বড় হয়ে মায়ের মতো হবি। আমার এটাই পাওয়া!’

গল্পকথা নয়। আমার শাশুড়ি আর মা আমাকে, আমার কাজকে এত সম্মান করে যে তাদের জন্য কাজ করতে বেশি ইচ্ছে করে। খুব শান্তি পাই এই পরিবেশে।

কাজের জায়গার কথা যখন উঠল তখন এটা লিখতে আর দ্বিধা নেই যে, সেখানে নারী-পুরুষের সাম্য আজও আসেনি। নারীকেন্দ্রিক ছবিতে এখনও একজন বড় মাপের অভিনেতাকে অভিনয়ের জন্য পাওয়া যায় না। অথচ নায়ককেন্দ্রিক ছবিতে তো আমরা দিনের পর দিন অভিনয় করেছি। এটা শুধু কলকাতা নয়, মুম্বইতেও আছে। আর পারিশ্রমিকের দিকেও কোনো সমতা আসেনি। ছেলেরা বেশি টাকা পাবে, মেয়েরা কম টাকা। এতো সব জায়গায় চলছে।

তবে এই বিষয় নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। তাই আমি আশাবাদী। বিরাট কোহলীকে যখন মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে লিখতে দেখি ভালো লাগে।

নিজের মতো করেও চেষ্টাও করছি। রোববার যেমন সমাজের লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিছু মুখকে সম্মান জানালাম আমরা। কেউ গার্হস্থ্য হিংসার মুখোমুখি হয়ে জীবনকে বেছে নিয়েছে, কেউ আবার নিজের মাকে আগুনে পুড়তে দেখার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এমন মানুষদের সামনে নিয়ে এলাম আমরা। সম্মান জানালাম।

তবে অনেকটা পথ বাকি। রাস্তা লম্বা। সবাই তো ভাবতে পারি না?

এ পৃথিবীতে আমরা মানুষ। শুধুই মানুষ! নারী বা পুরুষ নই।

 সূত্র:  বাংলাদেশ জার্নাল

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam