তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

উলিপুরে বিস্তীর্ণ চরে ভুট্টার আবাদ, ধু-ধু বালুচর এখন সবুজের সমাহার

  • প্রকাশ সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২, ৯.২৩ এএম
  • ৭১ বার ভিউ হয়েছে
 খা‌লেক পার‌ভেজ লালু,উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিস্তীর্ণ  চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ভুট্টার আবাদ হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। এই উপজেলায় ১টি পৌরসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নের মধ্য ৮টি ইউনিয়ন নদী ভাঙনে বিধ্বস্ত। এই ৮টি ইউনিয়ন তিস্তা, ধরলা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে হাজারো পরিবার ফসলি জমি ও বসতবাড়ী হারিয়ে নিঃস্ব। এই নিঃস্ব পরিবারগুলো বাঁচার তাগিদে তাদের বংশীয় ঐতিহ্য ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রিকশা, ভ্যান চালাতো এছাড়াও কেউবা রাজমিস্ত্রির শ্রম বিক্রি করছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নদীর বুকে জেগে ওঠেছে ছোট ছোট বালু চর। ভাঙন কবলিত ওই ৮টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের লোকজন জেগে ওঠা চরের জমিতে বিভিন্ন প্রকার রবি ফসলের চাষাবাদ করছেন। তারমধ্যে ভুট্টা আবাদের লক্ষণ মোটামুটি ভালো। অনুকুল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে এবার ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন পাবে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫৮০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলে অর্জিত হয়েছে ৫৬৫ হেক্টর।  গত মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ৪৮৫ হেক্টর   এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকেরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ভালো ও দাম বেশি পাওয়ায়  কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদ, ধরলা ও তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, বজরা, থেতরাই ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে ভুট্টার চাষ বেশি হয়েছে। উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে জলংগার কুটি ও অনন্তপুর চরে সরেজমিনে দেখা যায়, জেগে ওঠা ধু-ধু বালু চরে ভুট্টা আর ভুট্টা। যা চোখে পড়ার মত। জলংগার কুটি চরে কিষাণ-কিষাণীরা ভুট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। কেউ জ্বালানির জন্য ভুট্টার গাছ, ভুট্টার মোচা ও ভুট্টার ছোবড়া সংগ্রহ করছে। এদিকে, অনন্তপুর চর, কালপানি বজরা, সাদুয়া দামারহাট, আফতাফগঞ্জ চর ও থেতরাইয়ের ধু-ধু বালু চরে ঝিলমিল করে বাতাসে দুলছে ভুট্টার সবুজপাতা ও শোভা পাচ্ছে ভুট্টার উঠতি চারা। ভুট্টার আবাদকে ঘিরে নদী গর্ভে নিঃস্ব হওয়া হাজারো কৃষকের মুখে এখন সুখের হাসি। কৃষক অধীর আগ্রহে মাঠে কাজ করছে ফসল ঘরে তোলার জন্য।
হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর ভুট্টার ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ভুট্টা চাষে কীটনাশক ও পানি সেচ বেশি দিতে হয় না। বেশি লাভের কথা চিন্তা করে ধানের পরিবর্তে ২ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। একই কথা বলেন, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ, আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ও মোকছেদ আলী।
উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জলংগার কুটি চরের ভুট্টা চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, ভুট্টা চাষে খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি। এজন্য এবার আমি ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছি। গত ১০ অক্টোবরে প্রায় ১৬ একর জমিতে রকেট ৫৫৫ ও বাহুবলি জাতের  ভুট্টা রোপন শুরু করেছিলাম ৯ এপ্রিলে মধ্যে ভুট্টার মারাই শেষ করেছি। মোটামুটি প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩২ মন ভুট্টা হয়েছে। ভালো ভাবেই ফসল তুলতে পেয়েছি।
উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুল করিম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর এই এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। এ বছর ভুট্টার তেমন কোন রোগবালাই নেই আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। রোগবালাই থেকে ভুট্টাকে মুক্ত রাখতে পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
হাতিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার কৃষকেরা যাতে স্বল্প খরচে যথাসময়ে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উচ্চ মূল্য ও পানি সাশ্রয়ী ফসল হিসেবে ভুট্টা চাষে ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। বর্তমানে অনুকুল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam