তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
সদ্য সংবাদ :

চাষের উপযোগী হয়েও কাজে আসছে না চরের জমি

  • প্রকাশ শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২, ৯.৩৭ এএম
  • ৩৭ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ বাংলাদেশে চরের জমির মোট আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। যা রাজধানী ঢাকার আয়তনের তুলনায় আড়াই গুণ বড়। চরের এই জমির প্রায় ৯০%-ই চাষাবাদের উপযোগী।তবে, কম উৎপাদন, আধুনিক কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাব, বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই চরের জমি থেকে তেমন কোনো লভ্যাংশ আসছে না।বাংলাদেশের প্রধান চারটি নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র এবং তাদের ৫০০টিরও বেশি উপনদী থেকে ধীরে ধীরে বালি, পলি এবং কাদামাটি জমার ফলে চরগুলো গঠিত হয়েছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন চরে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। কিন্তু চাষাবাদ সম্প্রসারণ পরিষেবার অভাব, বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ কম হওয়া, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব এবং আধুনিক খামার প্রযুক্তির কম গ্রহণের কারণে চরের কৃষকদের কম উৎপাদন এবং অল্প লাভে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পসময়ে উৎপন্ন ধানের জাত, উন্নত জাতের সবজি, তৈলবীজ বা অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষ করা হলে এবং কৃষকদের ন্যায্য বাজারমূল্য দেওয়া হলে চরের জমিতে চাষাবাদ ও ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিরি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি (কেএসইউ) বাংলাদেশের চরের জমি নিয়ে তিন বছরের একটি যৌথ কর্মসূচির ফলাফল প্রকাশ করেছে।কেএসইউ মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) এক ওয়েবিনারে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চরের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো দরকার।ওয়েবিনারে তারা কিছু প্রস্তাবিত নীতি সুপারিশসহ প্রকাশ করেছে।২০১৯-২১ সালে রংপুর এবং পটুয়াখালী জেলার নির্বাচিত কয়েকটি চরে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের চরভূমিগুলোতে জাতীয় গড় ২০০%-এর তুলনায় জমির চাষ যোগত্যা ১৪৫%। জমির চাষ যোগত্যা বলতে একটি কৃষি এলাকায় বছরে কতবার ফসল রোপণ করা হয় তাকে বোঝায়। এটি প্রকৃত ক্ষেত্রফলের সঙ্গে উৎপাদিত ফসলের অনুপাত।চরের আবাদযোগ্য জমির ৭৬% ধান চাষের জন্য এবং বাকি অংশ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, কৃষকরা ধান চাষ করে যা উপার্জন করে তার চেয়ে তেলবীজ, চিনাবাদাম, আলু, মশলা এবং অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষ করে অনেক বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারে।ইরি, বিরি, বারি এবং কেএসই-এর গবেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশ যদি চরাঞ্চলের কৃষকদের স্বল্প সময়ের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সরবরাহ করতে পারে, তাহলে কৃষকরা আরও বেশি অর্থকরী ফসল চাষ করে বেশি আয় করতে পারবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam