তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
কমলগঞ্জে চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ মৌলভীবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানের তৃতীয় দিনে গ্রেফতার-২৪ শেরপুর ফাড়িঁ পুলিশের ফড়ির অভিযানে গাঁজাসহ আটক-১ আদমদীঘিতে কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড একটি গ্রামের অর্ধশতাধীক বাড়িঘর লালমনিরহাটে সংস্কার এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন ফুলবাড়ীতে ইয়াবা ও  ফেনসিডিল সহ চিহ্নিত  মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার  কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহে ৪০৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, স্বাভাবিকের চেয়েও ৫৮ শতাংশ বেশী হিলিতে ঝড়ে ঘরবাড়ি,বিদ্যুতের খুটি ও মাঠের ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডোমারে স্বামী ‘ফোন না ধরায়’ অভিমানে স্ত্রীর আত্মহত্যা আদমদীঘিতে ১মাসে চোর চক্রের আট সদস্য গ্রেফতার

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশ যাচ্ছে আলু

  • প্রকাশ মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২, ১২.১৬ পিএম
  • ৩৩ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ কৃষির ওপর নির্ভর জয়পুরহাট জেলায় মোট কৃষিজমির ৮০ শতাংশে আলু চাষ হয়। আনুপাতিক হারে আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে এবারও আলুর বাম্পার ফলন ঘটিয়েছে কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

এদিকে, মাঝখানে আলুর দাম একটু কম থাকলেও পরে বাজার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ লাভবানও হয়েছেন কৃষকরা। আলু তোলা শেষ হতেই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জয়পুরহাটের আলু জেলা ও উপজেলায় সরবরাহসহ বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

জানা গেছে, জেলায় এবার ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন ধরা হলেও এটি ছাড়িয়ে গেছে।

জেলায় পাঁচ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় কালাই উপজেলায়। কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২০০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের আলু এবং স্থানীয় ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাকড়ী জাতের আলু চাষ হয়েছে।

আলু উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদের জমি লিজসহ, বীজ, জমি চাষ, সার-ওষুধ, সেচ, নিড়ানি, বাঁধাই, আলু উত্তোলনসহ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে খরচ হয়েছে (আলুর জাতভেদে) ১৮/২৫ হাজার টাকা। আলুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ, স্থানীয় পাকড়ী জাতের তেল-পাকড়ী, পাহাড়ী-পাকড়ী, বট-পাকড়ী ও ফাটা-পাকড়ী। তবে বেশি চাষ হয়েছে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, ও রোজেটা।

 

জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের আলু জাতভেদে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় তা কিছুটা নেমে ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে খুচরা বাজারে আলু জাত ভেদে ৪৫০-৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে বাজার থাকলে বিঘা প্রতি আলুতে বেশ লাভ করতে পারবেন কৃষকরা। বিঘাপ্রতিতে ফলন হয়েছে ৭০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত।

এই আলু স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও কালাইয়ের আলু মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

কালাই উপজেলার ১০ থেকে ১৫টি স্থান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা পরিপক্ক আলু সংগ্রহ করে তা বাছাই করে নেটের হলুদ প্যাকেটে প্যাকেটজাত করছেন। এখানকার আলু বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আলুর ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কালাই উপজেলার আপলাপাড়া গ্রামের আলুচাষি আনোয়ার বলেন, ৮ বিঘা জমিতে এস্টোরিক্স ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘা প্রতি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আলু পেয়েছি প্রায় ১০০ মণ। বিদেশি এক কোম্পানির এজেন্টের কাছে ওইসব আলু বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমানে আলুর বাজার দর অনুযায়ী প্রতি বিঘায় লাভ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

কালাই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আলুচাষি রাজ্জাক বলেন, মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির এজেন্টের কাছে প্রতি মণ ৫৩০ টাকা দরে দুই বিঘা জমির মিউজিকা জাতের আলু বিক্রি করেছি। এবার বাজারে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।

কালাই উপজেলার নান্দাইলদীঘি গ্রামের মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির আলু কেনার এজেন্ট বাশেদ ও রফিকুল বলেন, মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১৩ টাকা কেজি দরে প্রায় ৪০০ মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হচ্ছে।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর মান ভালো করতে আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। কৃষকরা যাতে ভালো ফলন পান সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হয়েছে। আলুর দাম ভালো পেয়ে কৃষকরা অনেক খুশি। কৃষকদের আলু ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে না করে হাইজেনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হাইজেনিক পদ্ধতিতে আলু চাষ করলে প্রতি বছর বিদেশিদের কাছে চাহিদা বাড়তেই থাকবে। কারন বিদেশীরা কীটনাশক স্প্রে করা আলু নিতে অনেক সময় অনাগ্রহী হয়ে পড়েন।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরগুলোর তুলনায় এবার বিদেশে আলুর চাহিদা বেড়েছে। আলু পাঠাতে কৃষি বিভাগ যদিও রপ্তানিকারকদের সাথে যুক্ত নন, তারপরও পরামর্শসহ সহযোগীতা করে আসছেন, যাতে করে দেশের আলু পৃথিবীর সকল দেশে রপ্তানি করতে পারেন তারা।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam