তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা স্যাটেলাইটের টুকরো সাফাইয়ে উদ্যোগ

  • প্রকাশ বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০২২, ৫.০২ এএম
  • ২১ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ  মানুষ বায়ুমণ্ডলেও জঞ্জাল সৃষ্টি করে চলেছে। বিকল ও অনিয়ন্ত্রিত স্যাটেলাইটের ছোট-বড় টুকরো ভবিষ্যতে রকেট উৎক্ষেপণ হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এক সুইস কোম্পানি সেই জঞ্জাল সাফাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছে।ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এক সেন্টিমিটারের থেকে বড় আকারের প্রায় দশ লাখ বস্তু পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চলেছে। জঞ্জালের এই বলয়ের কারণে কোনো এক সময় রকেট উৎক্ষেপণ আর সম্ভব হবে না।লুক পিগে ও তার স্টার্টআপ “ক্লিয়ারস্পেস” সেই সমস্যার সমাধান করতে চান। তিনি বলেন, “স্যাটেলাইটের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে শুধু সংখ্যা নয়, সেগুলির গতিবেগও একটা সমস্যা। কোনো স্যাটেলাইট সাধারণত দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে। সেই সময়ে সেটি অন্য দুটি কক্ষপথের উপর দিয়েও উড়ে যায়। সেই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিকল হলে সেটি অনিয়ন্ত্রিত গোলাগুলির মতো হয়ে ওঠে।”

সেই “স্পেস স্ক্র্যাপ” ঘণ্টায় প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চলেছে। সেই পথে যা আসে সব ধ্বংস হয়ে যায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসা-র বরাত পেয়ে ক্লিয়ারস্পেস কোম্পানি এবার এমন এক রোবট তৈরি করছে, যা সেই স্ক্র্যাপ ধরে ফেলতে পারবে।সুইজারল্যান্ডের লোসান শহরের কাছে ছোট এই স্টার্টআপ কোম্পানি বড় আকারের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই সুযোগ পেয়েছে। লুক পিগে জানান, “মহাকাশে সহায়তার পরিষেবাই ক্লিয়ারস্পেসের লক্ষ্য। কোনো স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দিলেই আমরা সেটি নামিয়ে এনে ক্ষতিকর হতে দেই না।”

সবার আগে ক্লিয়ারস্পেস পুরানো এক রকেটের রেফ্রিজারেটরের মাপের একটি টুকরো সাফাই করতে চায়। লুক পিগে বলেন, “যে বস্তুটিকে আমরা ধরতে চাই, সেটি অনেকটা কফি ক্যাপসুলের মতো। আমাদের রোবট কোনো অনিয়ন্ত্রিত বস্তুর কাছে এসে পরিস্থিতি অনুযায়ী ওড়ার সেরা পথ হিসেব করে নেয়। তারপর বস্তুটির কাছে এসে লম্বা হাত বাড়িয়ে সেটি ধরে নেয়। সবশেষে বস্তুটিকে স্থিতিশীল করে, গতি কমিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।”

২০২৫ সালে প্রথম পরিকল্পিত মিশনে স্ক্র্যাপ ও রোবট একসঙ্গে পুড়ে যাবে। ভবিষ্যতে ক্লিয়ারস্পেস পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ যান তৈরি করতে চায়। মিনি স্যাটেলাইটের ব্যবসার রমরমার কারণে এমনটা করার সময় এসে গেছে।এমন বাঁধাধরা নির্মাণের উপকরণের সমস্যা হলো মিনি স্যাটেলাইটের আয়ু বড়জোর তিন থেকে পাঁচ বছর। তারপর জঞ্জাল হিসেবে সেগুলি পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে থাকে। মিনি স্যাটেলাইট সমস্যা বাড়িয়ে তুললেও লুক পিগের মতে, এমন প্রযুক্তির সুবিধাও কম নয়।

তিনি বলেন, “গোটা বিশ্বে, এমনকি আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলেও নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা জরুরি। এটা অসাধারণ উদ্যোগ। তাই এমন প্রকল্প নিষিদ্ধ করা লক্ষ্য হতে পারে না, সেগুলিকে বরং টেকসই করে তোলার চেষ্টা করতে হবে।”

একদিকে স্ক্র্যাপ-বিহীন মহাকাশ, অন্যদিকে বিশ্বের সব প্রান্তে ইন্টারনেট পরিষেবা– দুই স্টার্টআপের লক্ষ্য সত্যি উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam