তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

রমজানে তিমিরকাঠি মুড়িপল্লীর চাহিদা বেড়েছে মাটির হাঁড়ি পাঁতিলের টুং-টাং শব্দ!

  • প্রকাশ বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২, ৮.৫৬ এএম
  • ২৮ বার ভিউ হয়েছে

মনির হোসেন, বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ সেতু পার হলেই চোখে পরে মুড়ি পল্লী তিমিরকাঠি গ্রাম। হরেমজানের শুরুতেই মুড়ি ভেজে পাইকারদের হাতে তুলে দিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ছে নলছিটির দপদপিয়া মুড়ি পল্লী তিমিরকাঠির বাসিন্দরা।এ গ্রামের বলতে গেলে প্রায় এক”শ ভাগ পরিবারই মুড়ি ভাজা ও তা বিক্রি করাই তাদের মূল উপর্যন।মুড়ি ভাজা আধি পেশা হিসেবে ধরে রেখেছেন এ গ্রামের বসিন্দরা।সারা বছরই এ কাজেই তাদের সংসার চলে।রমজান মাস এলেই তাদের ব্যাস্ততা বেড়ে যায় অনেকগুন বেশী।শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা পর্যন্ত সকলেই মুড়ি ভাজার কাজে সহায়তা করেন।রমজানের আগেভাগেই মুড়ি ভেজে মজুদ রেখে বাড়তি ইনকাম করেন তারা।গত বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,সকল পরিবারই মুড়ি ভাজা নিয়ে ব্যাস্ত।মাটির হাঁড়ি পাঁতিলের টুং-টাং শব্দ।হাজারো মানুষের কর্মকার্যের মধ্য দিয়ে হাতে ভাজা এ মুড়ি দনিাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে রপ্তানী করে থাকেন।রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে ইফতারীর প্রধান রসদ হিসাবে ব্যাবহার হচ্ছে অতি শুসাধু ও মিষ্ঠি মোটা চালের মুড়ি।স্থানীয়রা জানায়,রমজান মাসে চাহিদার চেয়ে দৈনিক হাজার মন মুড়ি এ গ্রাম থেকে পাইকার ও আড়ৎদাররা সরবরাহ করেন।ইউরিয়া সারেরর ব্যাবহারবিহীন,হাতে ভাজা এ মুড়ি স্বাদে অতুলীনীয়।তাই প্রতিদিন মানুষের কাছে এ মুড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।বাজারে অনেক সাদা ও প্যাকেট জাত মুড়ি থাকলেও তার চেয়ে কদর বেশী তিমিরকাঠী গ্রামের হাতে ভাজা এ মুড়ির। স্থানীয় পাইকাররা জানান,যেসব দেখতে ধবধবে সাদা তা মেশিনে রাশয়নিক ক্যামিক্যাল ব্যাবহার ও ইউরিয়া সার যুক্ত করে তৈরী করা হয়।এসব মুড়ি স্ব্যাস্থের জন্য তিকর হওয়ায় সচেতন মহল তিমির কাঠির মুড়ির প্রতি দূর্বল।মেসার্স মা এন্টার প্রাইজ নামে একটি মুড়ি অড়ৎদারের মালিক মোঃ গিয়াস উদ্দিন খাঁন(৩৫),জানান িিতমিরকাঠী কিভাবে মুড়ি পল্লী হিসাবে রুপ নিয়েছে তার নেপথ্যেও কথা।এক সময় দেশের অন্য দশটা গ্রামের মতই এ গ্রামের লোকেরা নিজেদের পরিবারের প্রয়োজনীয় মুড়ি ভাজতেন।১৯৮৫ সালে পার্শ্ববর্তী গ্রাম জুরকাঠির বাসিন্দা আমজেদ মুড়ি ভেজে তা বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন।তার দেখাদেখী তিমিরকাঠীর কয়েকটি পরিবার তাদের সংসারের আয় ভাড়াতে মুড়িভেজে বিক্রি করতে শুরু করেন।গ্রামের বেশ কিছু মানুষ মুড়ি ভেজেই তাদের সংসার চালাতে শুরু করে।বিগত শতাব্দীর আশির দশকে আ.হক নামে এক বি এসসি শিক বিভিন্ন স্থানের পাইকারদের মুড়ি ক্রয়ের জন্য উদ্ভোদ্ব করে এ গ্রামে নিয়ে আসেন।এর পরই এঅঞ্চলের মুড়ির কদর বাড়তে থাকে।স্থানীয় মুড়ি কারিগর দেলোয়ার হোসেন ,মোসাঃ খাদিজা বেগম জানান, মুড়ির জন্য উপযোগী বিশেষ তিনটি প্রজাতির ধান ফলে বলেই এ এলকায় মুড়ির উৎপাদন করতে ভালো হয় ।দপদপিয়া ইউনিয়নে মোটা নাখুচী ও সাদা মোটা নামের তিন প্রজাতির ধানের ব্যাপক ফলন হয়।পূর্বে এক মাত্র বউরি ধানের মুড়ির প্রচলন থাকলে ও এখন তার চেয়েও সরস ধান হিসেবে নাখুচী ধানের মুড়ির কদর বেড়েছে।এছারও দিনাজপুর থেকে নাম্ভার১৬এবং ভারতের নলটি চাল ক্রয় করে তিমিরকাঠীর মানুষ মুড়ি তৈরী করেন।বানিজ্যিকভাবে মুড়ি ভাজার সাথে তিন যুগ ধরে জড়িত ভূইয়া বাড়ীর ৪২ টি ঘরের সবাই মুড়িভাজার পেশায় নিয়োজিত।শুধু এ বাড়িই নয় এ গ্রামের প্রত্যেক ঘরের মানুষ এখন দিন রাত সমানভাবে মুড়ি ভাজায় ব্যাস্থ।উনুনের জালের কাছে থ্াকতে হয় বলে ২/৪জন শ্রমিক পালা করে বিশ্রম নিয়ে নির্বিঘেœ চুলায় বালু ও চাল তাপ দিয়ে মুড়ি তৈরী করেন।শ্রমিকরা বিশ্রম নিলেও মুড়ির চুলার কোন বিশ্রম নেই।দৈনিক গড়ে ১০০কেজি মুড়ি ভাজতে পারলে খরচ বাদ দিয়ে ৭/৮শ টাকা লাভ হয়।তবে নিজেরা ধান কিনে সিদ্ধ করে শুকিয়ে মুড়ি ভেজে শহরে নিয়ে বিক্রি করলে দ্বিগুন লাভ হয়।তাই সল্প পূজির মানুষ রমজান মাসে কমপে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।ওই গ্রামের পুরুষরা মুড়িভাজা শেষ হলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে গেলে ও নারীদের কোন রেশ নেই।মুড়ি ভাজা শেষ হলে ছেলে মেয়ের দেখাশুনা ও রান্না বান্না করে সংসারের যাবতীয় কাজ সারতে হয়।বলতে গেলে গৃহীনিরা ২৪ ঘন্টাই কাজের মধ্য সময় কাটান।মুড়ি ভাজার সাথে যুক্ত তিমিরকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী রিমা(১৪)জানান,আমি পড়াশুনার পাশাপাশি সময় পেলেই আমার মা বাবা কে মুড়ি ভাজার কাজে সাহায্য করি।এ দিয়েই চলে আমাদের সংসার ও লেখা পড়ার খরচ।স্থ্নীয় অড়ৎদাররা এ গ্রাম থেকে মুড়ি সংগ্রহ করে দনিঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা,বরিশাল,চট্রগ্রাম,ফরিদপুর,চাদপুর, নোয়াখালী,কাউখালী,পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, মহিপুর, কুয়াকাটা, গোপালগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করছে।ফরিদপুর থেকে আসা মুড়ি ক্রয় করা পাইকার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,এখানকার মুড়ি অত্যান্ত সুস্বাদু ও মিষ্ঠি এজন্যই মুড়ির কদর বেশী। রমজান মাস ছাড়াও আমি এখান থেকে মুড়ি ক্রয় করে উত্তর অঞ্চলে দোকানে বিক্রি করি।মুড়ির গ্রাম তিমিরকঠীতে সব চেয়ে ভালো ও উন্নত মানের প্রতি কেজি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮০/৯০ টাকা দরে।এ ব্যাপারে ওই ইনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মৃধার সাথে কথা হলে তিনি অতি গৌরবের সাথে বলেন ,আমার ইউনিয়নে এত বড় হস্থশিল্প তা আমি আগে জানতাম না।আমাদের এখানকার মুড়ির চাহিদা অনেক বেশী। দেশের বিভিন্ন স্থানে এর অনেক সুনাম রয়েছে।তিনি দাবী করেন সরকারের সাহায্য সহযোগীতা পেলে এ শিল্প আরো এগিয়ে যেতেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam