তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

শিশুদের মধ্যে দেরিতে কথা বলতে শেখার প্রবণতা বাড়ছে কেন?

  • প্রকাশ রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২, ৬.১৯ এএম
  • ২৭ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ জিগাতলা এলাকার এক দম্পতির সাত বছর বয়সি সন্তান আছে। এই মেয়ে শিশুটি এখন কিছু শব্দ বলতে পারে। তবে কথা বলায় তার কোনো আগ্রহ নেই। সে সব কিছু ইশারায় বলতেই পছন্দ করে। কেউ যদি তার সামনে কিছু বলে তখন সেটা সে অনুকরণ করে বলতে পারে। কিন্তু পরে আর সেই সব শব্দ ব্যবহার করে কথা বলে না।

তার বাবা জানান, সে মোবাইল ফোন ও টেলিভিশনের প্রতি অতি মাত্রায় আসক্ত। এগুলো সরিয়ে বা বন্ধ করে রাখলে সে রেগে যায়। যে কোনো উপায়ে সে এগুলো দখলে নেয়। চিকিৎসকরা এখন শিশুটিকে স্পিচ থেরাপি দিচ্ছেন। তারা তার দেরিতে কথা বলা ছাড়া মানসিক বিকাশে আর কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছেন না।

তার বাবা স্বীকার করেন একদম ছোটবেলা থেকেই তাকে মোবাইল ফোন দিয়ে বা টেলিভিশন চালিয়ে খাবার খাওয়ানো হতো, শান্ত রাখা হতো। এটা কেবল একটি পরিবারের চিত্র না। একই পরিস্থিতি আরও অনেক পরিবারে। চিকিৎসকরাও বলছেন এই প্রবণতা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের নিয়ে বড় বিপদ হতে পারে। এমনকি কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কথা নাও বলতে পারে।

শিশু চিকিৎসক ও মনোচিকিৎসকরা বলছেন, নানা কারণে শিশুরা দেরিতে কথা বলতে পারে। এটা বংশগত বা মস্তিষ্কে কোনো সমস্যার কারণেও হতে পারে। তবে এই সময়ে বিশেষ করে শহর এলাকায় শিশুদের বাবা-মা সময় না দেওয়ায় তারা দেরিতে কথা বলছে। তারা যে কথা শিখবে তার আগে তাদের কথা শুনতে হবে। আর এটার “ইন্টার‍্যাকশন” না হলে তারা কথা বলা শিখবে না।

যদি একক পরিবার হয় এবং বাবা-মা দুইজনই কর্মজীবী হন তাহলে শিশুদের এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি বলে মনে করেছেন তারা। অনেক বাসায় গৃহকর্মীরা শিশুদের মোবাইল ফোন দিয়ে বা টিভি ছেড়ে বসিয়ে রাখে। তখন যোগাযোগ হয় এক পাক্ষিক। শিশুটি শুধু শোনে। বলতে শেখে না। এটা হলো “কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার”।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বলেন, “এটার কোনো জরিপ নেই। তবে আমরা এখন শিশুদের এই ধরনের সমস্যা বেশি পাচ্ছি।”তিনি বলেন, “শিশুরা যদি আট বছর বয়সেও কথা বলতে না পারে তাহলে সেটা ভয়ের। তখন তাদের আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কথা বলানো সম্ভব নয়। তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ও কেয়ার প্রয়োজন হয়।”তিনি বলছেন, শিশুদের যদি বাবা-মা সময় না দেয়, সে যদি ডিভাইস নির্ভর হয়ে পড়ে তাহলে যে তার পরিবেশের কারণেই ঠিক সময়ে কথা বলতে পারবে না।

সাধারণত একটি শিশু এক বছর বয়স থেকে কথা বলা শুরু করে বলে জানান শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নাজমুল আলম। তিনি বলেন, “যাদের কথা বলতে দেরি হয় তাদের মানসিক বৃদ্ধি দেরিতে হয়। দুই বছরে শিশু দুই-চারটি শব্দ বলবে। সেটা যদি সে আট বছরে বলে তাহলে তার মানসিক বয়স দুই বছর, যদিও ফিজিক্যাল বয়স আট বছর।”

তিনি জানান, এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বে এখন দেখা যাচ্ছে। কারণ শিশুদের বাবা- মা সময় না দিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস নির্ভর করে তুলছে। মোবাইল ফোন হলো ওয়ান ওয়ে। এ দিয়ে শিশু কথা শেখে না। ফোনের ডিসপ্লেই হয়ে যায় তার পৃথিবী। কোনো কিছু শেয়ার করা, কথা বলা তার চিন্তার বাইরে থেকে যায়।

তাই শিশুদের সময় দিতে হবে। তাদের কাছ থেকে ডিভাইস দূরে রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।তিনি জানান, কথা বলতে দেরি হলে স্পিচ থেরাপিসহ নানা চিকিৎসা আছে। শিশুর ফিজিক্যাল বয়স ও মানসিক বয়স পরিমাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশু মনোচিকিৎসক অধ্যাপক ড. হেলালউদ্দিন বলেন, “এটা আসলে শিশুদের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডার। আমরা জরিপে দেখেছি শিশুদের শতকরা ১৩% নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগে। তাদের মধ্যে শতকরা ৬% অটিজমসহ কম্যুনিকেশন ডিজঅর্ডারের সমস্যায় ভোগে।”

তিনি বলেন, “শিশু তার প্রথম বছরেই মানে ১২ মাসের মধ্যে বাবলিং করবে। আর ছয় বছরের মধ্যে পুরো কথা বলা শিখে যাবে। এরচেয়ে দেরি হলে চিন্তার কারণ আছে।”

শিশু ঠিক সময়ে কথা না বললে সাধারণভাবে অভিভাবকরাই এর জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “শিশুর সঙ্গে কথা বলতে হয়। তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করতে হয়। এটা তো যন্ত্র করবে না। আর শিশুদের অনেক সময় চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। কথা বলতে বারণ করা হয়। এটাও ক্ষতিকর।”

তিনি শিশুদের সঙ্গে বাবা-মার কোয়ালিটি সময় কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সামাজিক করার পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam