তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
muktinews24
সদ্য সংবাদ :
ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য অডিট রিপোর্ট সঠিক হওয়া প্রয়োজন                                                                           — বাণিজ্যমন্ত্রী ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি ৪০ দিনেই ৪০ কোটি টাকার বেশি খাজনা আদায় লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় প্রাধান আসামি গ্রেপ্তার  আটোয়ারীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত্যূ পিরোজপুরে র‌্যাবের অভিযানে এক যুবকে গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে ডিমের দোকানে ভোক্তার অভিযান, ৩টিতে জরিমানা দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবতীর লাশ উদ্ধার খানসামা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আগামী মাসে সমন্বয় করা হবে তেলের দাম, থাকবে না লোডশেডিং

সান্তাহারে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে ট্রেন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে

  • প্রকাশ শনিবার, ৭ মে, ২০২২, ১০.৪১ এএম
  • ৬৪ বার ভিউ হয়েছে

 

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদুল ফিতরে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষরা। ঈদের আগে ঘরে ফেরার মতো এবার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতেও পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রেন যাত্রীদের। বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে আর টিকিটের জন্য যাত্রীদের হাহাকার অবস্থা। অর্থাৎ বাড়ি ফিরতে যেমন ট্রেনের টিকিটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ লাইনের দাঁড়িয়ে টিকিট নেওয়ার ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ঠিক একই ভাবে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতেও সেই একই রকম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রেন যাত্রীদের।
সান্তাহার জংশন স্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ,শুক্রবার ও শনিবার এই তিন দিন ঢাকাগামী ট্রেন যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে হতে ঢাকামুখী ট্রেন যাত্রীদের ভিড় ছিল দেখার মত। দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রী নিয়ে সান্তাহার হয়ে ঢাকা যাচ্ছে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন। দেখা গেছে কোনো ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছায়নি। তবে প্রতিটি ট্রেনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভিড় ঠেলে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই ব্যস্ত ট্রেনে উঠতে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবি মানুষ রাজধানী ঢাকার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। তবে ট্রেন আসনের চেয়ে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুনের চেয়েও বেশী লক্ষ্য করা গেছে । ঈদে সরকারি ছুটির পর শনিবার ও রবিবার থেকে বিভিন্ন সরকারী ও বে-সরকারী অফিস খুলছে।
নওগাঁ থেকে কর্মস্থল ঢাকায় ফেরা আলমগীর রহমান বলেন, ঈদের সময় ঢাকা থেকে ট্রেনে আসতে যে ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ঢাকা থেকে সান্তাহার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে আসি। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘন্টা দেরি করে স্টেশনে পৌঁছেছে ট্রেনটি। তার ওপর ট্রেনে যাত্রীদের অধিক চাপ। গরমে হাঁসফাঁস করার মতো অবস্থা। ট্রেনের আসন সংখ্যার তুলনায় দাঁড়ানো যাত্রী বেশি থাকার ফলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সুর্বনা আক্তার বলেন, নারী যাত্রী হিসেবে পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু নির্বিঘেœ যাত্রা করার জন্য ট্রেনকে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু ট্রেন পথে বিভিন্ন দুর্ভোগের পর অবশেষে আবারও ঢাকায় যাত্রা করছি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ট্রেন আসছে, প্রতিটা স্টেশনেই বেশিণ বিরতির ফলে নির্ধারিত সময়ের ছেয়ে কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশনে আসছে ট্রেন।
সান্তাহারের ট্রেন যাত্রী ফিরোজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। সেই টিকিটগুলো অনেক বেশি দামে কাউন্টারের আশেপাশে বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায়। তিনি রংপুর আন্তঃনগর ট্রেনের এসি সিগ্ধা ১টি টিকিট ১৫ শত টাকায় কিনেছেন। কাউন্টারে ৪ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাওয়া যায়নি। কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে টিকিট শেষ হয়ে গেছে। অথচ তিনি লাইনে ৩ নাম্বার সিরিয়ালের যাত্রী ছিলেন। তাহলে টিকিট কেমন করে শেষ হয় আপনারা বলেন, এমন প্রশ্ন করছেন তিনি এই প্রতিবেদকে ?
লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন জন্য আমাদের কে তিন দফা যুদ্ধ করে বাড়ি আসতে হয়। আবার ৩ দফা যুদ্ধ করে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরতে হয়। যেমন ট্রেনের টিকিটের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট নিতে হয়। আবার সেই ট্রেনে উঠতে গিয়ে আবার একবার যুদ্ধ করতে হয় এবং শেষ যুদ্ধ করতে হয় ট্রেন থেকে নামতে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলার আরেক ট্রেন যাত্রী আলাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল ঢাকায় যাবো। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন, আসার সময় ট্রেনে এত ভিড় ছিল যে আমি আমার নিধারিত আসনে যেতে পারেনি। টিকিট কেটেও ৬ ঘন্টা ট্রেনে দাঁড়িয়ে এসেছি। এবারও টিকিট কেটেছি তবে ট্রেনে যে পরিমান ভিড় দেখা যাচ্ছে তাতে করে ট্রেনে উঠতে পারবো কি না চিন্তায় আছি। আবার ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে না পারালে চাকরি থাকবে কিনা তাও জানি না।
এ বিষয়ে সান্তাহার রেলস্টেশনের স্টেশন মাষ্টার রেজাউল করিম ডালিম বলেন, যে সব যাত্রীরা গ্রামে ঈদ করতে এসেছিল তারা আবার ঢাকায় ফিরছে। তাই যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় এবং যাত্রীদের ট্রেনে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্টেশনে একটু বেশি সময় ট্রেন দাঁড়াচ্ছে। এতে কিছুটা দেরি করে ট্রেন আসছে এবং ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam