তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
সদ্য সংবাদ :
আদমদীঘিতে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা তৃতীয় দিনে ৯২ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি শেখ হাসিনার বারতা নারী পুরুষ সমতা  উলিপুরে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান  মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও ক্রাইম কনফারেন্স অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জিএম কাদেরের ঈদ শুভেচ্ছা ফুলবাড়ীতে নেসকো কোম্পানীর বিদ্যুৎ নিয়ে ভেলকিবাজি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগস্টে নোয়াখালীতে উদ্বোধনের ২৪ ঘন্টা না যেতেই বিআরটিসি বাসঃ পুনরায় চালুর দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমনিরহাট ক্যাম্পাসের একাডেমিক সেশন উদ্বোধন করেন বিমান বাহিনী প্রধান সুবর্ণচরের একাধিক মামলার আসামি লাল আজাদ গ্রেপ্তার

নেসকো”র রংপুর বিভাগের দ্বায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াছ কুরুনীর বেপরোয়া উৎকোচ বানিজ্যের প্রতিবাদে ডোমারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত । 

  • প্রকাশ শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২, ৯.৩৩ এএম
  • ১৮ বার ভিউ হয়েছে
রবিউল হক রতন ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমারে নেসকো’র রংপুর বিভাগের দ্বায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াছ কুরুনী খাঁন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বেপরোয়া উৎকোচ বানিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষােভ করেছে  ভূক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। শুক্রবার ১৭ জুন সকাল ১১টায় ডােমার কেদ্রীয় শহীদ মিনার চত্তরে ভুক্তভােগী বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির ব্যানারে আয়ােজিত মানববন্ধন ও বিক্ষােভ সমাবেশে গােলাম কুদ্দুস আইয়ুব”র সভাপতিত্বে,: বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বিক্ষোভ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা তাদের বক্তব্য বলেন, এই উপজেলায় নেসকোর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী নানাবিধ অপকর্মে এমনিতেই দিশেহারা। তার উপর অত্যাচারের নতুন মাত্রা হিসেবে যােগ হয়েছে রংপুর বিভাগের জন্য নিযুক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াছ কুরুনীর উৎকোচ বানিজ্যে। বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ন্ত্রনের জন্য তার কাজ করার কথা থাকলে ও  ম্যাজিষ্ট্রেট  ওয়াছ কুরুনী বিচার কার্যের মতাে মহান পেশার প্রতি বদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে নীতিও নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে নিজের হীনস্বার্থ হাচিলের নেশায় মেতেে উঠেছেন।এবিষয়ে ডোমার বড়রাউতা পেট্রোলপাম্প এলাকার আব্দুল হাই বলেন, আমার মাত্র ৩২শ টাকার একটি বিদ্যুৎ বিল বাকী থাকার অজুহাতে আমার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপুরণের মামলা করেন দ্বায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট।পরবর্তিতে আদালতে গেলে তিনি ১লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। এরপর তারই নির্দেশনায় তার নিযুক্ত দালালের মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকায় দফারফা করতে বাধ্য হই। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তার নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে সরকারী কোষাগারে মাত্র ৫ হাজার টাকা জমা দেয়ার আদেশ দেন।
অপর ভুক্তভোগী আজিজুল ইসলামের স্ত্রী কহিনুর বেগম বলেন, তিনি অত্র বিভাগের দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে সাধারন গ্রাহককে কথিত মামলার ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ আদায় করছেন। অনেকটা প্রকাশ্যেই এই উৎকোচ বানিজ্যে করে সম্পদের পাহাড় গড়লেও দেখার যেন কেউ নাই। তিনি আরও বলেন, আমার ২১ হাজার টাকা বকেয়ার দায়ে আমার বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকার মামলা দেয়। ধার্য তারিখে তার অফিসে গেলে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াছ কুরুনী সরাসরি আমার কাছে ১লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করে মামলা দফারফা করার প্রস্তাব দেয়। মামলা রফাদফা না করলে তার স্বামীর নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির হুমকি দিলে আমি বাধ্য হয়ে ১লক্ষ টাকা উৎকোচ দিয়ে মামলা নিস্পত্তি করি। আমাকে ১০হাজার টাকা দিয়ে নির্দেশ দিয়ে বলেন এই টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য।  এসময় বক্তারা আরও বলেন, এই অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রধান টার্গেট ব্যবসায়ী, কৃষক, হতদরিদ্র ও অশিক্ষিত শ্রেনীর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। তিনি বেছে বেছে এসকল গ্রাহকের নামে নানা ছুঁতা খুঁজে বের করে তাদের নামে ৫/৭লক্ষ টাকার কথিত মামলা চাপিয়ে দিয়ে তার নিযুক্ত দালাল বাহিনীর মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে ১লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে আপোষরফা করে বিচার বিভাগকে কুলষিত করেছেন।  তার মামলার ফাঁদে পড়ে অসহায় ভূক্তভোগীরা গরু বাছুর ,ছাগল ,ভ্যান এমনকি ১২দিন বয়সের দুধের বাছুর রেখে প্রান প্রিয় গাভীটি পর্যন্ত বিক্রি করে ম্যাজিষ্ট্রেটকে উৎকোচ দিয়েছেন। তার এহেন কর্মকান্ডের জন্য তাকে নেসকোর কসাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন বক্তারা।
এবিষয় বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির আন্দোলনকারী নেতা গোলাম কুদ্দুস আইয়ুব বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াছকুরুনী প্রকাশ্য উৎকোচ বানিজ্যের বাজার খুলে বসেছে। এ যেন দেখার কেউ নাই। তিনি ভুক্তভোগীর নিকট থেকে নেয়া উৎকোচের টাকা ফেরতের জোড় দাবী জানান। এবিষয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান হিল্লোল বলেন, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী একজন অথর্ব, তার অফিসও উৎকোচের বাজার খুলে বসেছে। তার ইন্দোনে এইসব অনিয়ম অপকর্ম চলছে, দীর্ঘদিন ধরে এতো অনিয়ম অপকর্ম হলেও তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত ভাবে কেন জানাননি এমন প্রশ্ন করেন তিনি। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন সমাবেশে প্রধান অতিথি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ডোমারের নেসকোর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং দূর্নীতির ব্যাপারে আগে থেকে আমি অবগত কিন্তু একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের এহেন দূর্নীতিতে আমি ও আমার দল ক্ষুব্ধ এবং হতভম্ব।  পরিশেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে ফিরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এবিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়ায়েজ কুরুনী খান চৌধুরীর মুঠোফোনে ০১৭৩৫-৪২১৬২৬ নম্বরে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্যে প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam