তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
muktinews24
সদ্য সংবাদ :
পলাশবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক ব্যক্তির মৃত্যু রংপুরের কাউনিয়ায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী সানজিদা ইভা হত্যার ঘটনায় এক দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন  ঝড়ো আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পিরোজপুরে শোক দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের সভা কুড়িগ্রাম সদর থানায় লাশঘরের উদ্বোধন ট্রাকচাপায় ভ্যানচালকের মৃত্যু শেখ হাসিনা মানুষের কষ্ট বোঝেন : ওবায়দুল কাদের ৪ মাসে এক কোটি ট্রেনের টিকিট বিক্রি, দাবি সহজের শ্রীমঙ্গলে মুরগি ও ডিমের ৪ প্রতিষ্টানকে জরিমানা ঘোড়াঘাটে নদীর পানি থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো এসএসসি পরিক্ষার্থীর

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের ৫ আমল

  • প্রকাশ শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২, ১০.২২ এএম
  • ৪০ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  পৃথিবীর সূচনালগ্নেই আল্লাহ তাআলা বছরকে বারোটি মাসে ভাগ করেছেন। তন্মধ্যে চারটি মাসকে সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‌আল্লাহ যেদিন আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই মাসগুলোর গণনা আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর বিধান মতে বারোটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত হাদিসে চারটি মাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো জিলকদ, জিলহজ, মুহাররম ও রজব। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৬২)

প্রথম দশকের মর্যাদা : জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ মর্যাদা কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা জিলহজ মাসের প্রথম দশকের কসম করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ ফজরের, শপথ ১০ রাত্রির। ‘ (সুরা : ফাজর, আয়াত : ১-২)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-সহ বেশির ভাগ সাহাবি, তাবেয়ি ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘১০ রাত’ দ্বারা জিলহজের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। ‌তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/৫৩৫)

জিলহজ মাসের বিশেষ আমল : পবিত্র এই মাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো

১. নখ ও চুল না কাটা : জিলহজের  চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানির আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, মোচ, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, যখন জিলহজের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)

যে ব্যক্তি কোরবানি করতে সক্ষম নয় সে-ও এই আমল পালন করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কোরবানির দিন কাটবে। আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, আমাকে কোরবানির দিনে ঈদ (পালনের) আদেশ করা হয়েছে, যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক সাহাবি আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী) আমি কি তা কোরবানি করব? নবী (সা.) বললেন, না। তবে তুমি চুল, নখ ও মোচ কাটবে এবং নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮৯)

২. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা : যে আয়াতে আল্লাহ তাআলা চারটি মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন, সে আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং এ মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার কোরো না। ‘ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)

আল্লাহর অবাধ্য হওয়া, নিজের ওপর সবচেয়ে বড় অবিচার। সুতরাং এই মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

৩. বেশি বেশি জিকির করা : এই মাসে অধিক পরিমাণ জিকির করা আবশ্যক। বিশেষ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়া। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলার কাছে জিলহজের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়ো। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৫৪৪৬)

৪. রোজা রাখা : জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা উত্তম। হাদিসে এসেছে, ‌রাসুলুল্লাহ (সা.) জিলহজের ৯ দিন রোজা রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৪৩৭)

এর মধ্যে ৯ জিলহজের রোজাকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আরাফার দিনের (৯ জিলহজ) রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন। ‘ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

৫. তাকবিরে তাশরিক আদায় করা : ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্তের নামাজের পর একবার করে তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। জামাতে নামাজ পড়া হোক বা একাকী, পুরুষ বা নারী, মুকিম বা মুসাফির সবার ওপর ওয়াজিব। এমনকি ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত কোনো নামাজ কাজা হয়ে গেলে এবং ঐ কাজা এই দিনগুলোর ভিতরেই আদায় করলে সে কাজা নামাজের পরও তাকবিরে তাশরিক পড়বে। পুরুষরা তাকবির বলবে উচ্চ আওয়াজে আর নারীরা নিম্নস্বরে।

৬. কোরবানি করা : প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন যেসব মুসলিম নর-নারী ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্য থেকে পশু কোরবানি করার চেয়ে কোনো আমল আল্লাহ তাআলার নিকট অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন এই কোরবানিকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ তাআলার কাছে তা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি কোরো।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam