তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

অবিশ্বাস হলেও সত্যি মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে মাদরাসা

  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২.০৩ পিএম
  • ৩৬ বার ভিউ হয়েছে
খা‌লেক পার‌ভেজ লালু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ অবিশ্বাস হলেও সত্যি মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে অবস্থিত এক সময়ের উত্তর বঙ্গের এক মাত্র শ্রেষ্ঠ ইসলামিক উচ্চ শিক্ষা বিদ্যাপিট সাতদরগা নেছারিয়া কামিল মাদরাসা। বড় পরিসরে ক্লাসরুম হলেও শিক্ষার্থী মাত্র একজন মোঃ অলি উল্ল্যা। আলীম বিজ্ঞানে ১জন আলীম সাধারণে ২ জন এবং দশম শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষক যথাক্রমে মোহনা আক্তার, আব্দুর রাজ্জাক ও রাহেলা বেগম। অথচ কাগজে কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৩ জন। আলিম ১ম বর্ষ সাধারন ক্লাসে ভর্ত্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ জন, উপস্থিত নাজমুল হুদা ও শাহিন আহাম্মেদ নামের দুই শিক্ষার্থী। ফাজিল ও কামিল শ্রেনীতে কোন শিক্ষার্থী নেই। এবতেদায়ী শাখার ১ম শ্রেনী থেকে ৩য় শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থী শুন্য। প্রতিষ্টানটি পর পর ৩ দিন গিয়ে পাওয়া গেল একই চিত্র।
কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাতদরগা গ্রামে মোঃ আব্দুন্নাছির পীর সাহেব কেবলা স্থানীয় কয়েকজন ইসলামী শিক্ষানুরাগীকে নিয়ে ১৯৪২ সালে কয়েক একর জমির উপর প্রতিষ্টা করেন মাদরাসাটি। সাবেক এম পি মাও.মতিয়ার রহমান অধ্যক্ষ থাকাকালীন পর্যন্ত ভালোই চলছিল মাদরাসাটি। তিনি অবসরে যাওয়ার পর অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে শুরু হয় নানা জটিলতা। স্থানীয়দের অভিযোগ ২০০৭ সালে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান মাও.আবুল কাশেম। এ নিয়ে শুরু হয় শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে দলাদলি, মামলা মোকদমা। বত্র্মানে উত্তর বঙ্গের এই শ্রেষ্ট বিদ্যাপিটটি শিক্ষার্থীর সংকটে পড়ে অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে। এ দুরাবস্থার জন্য অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের দলাদলিকে দায়ী করলেন স্থানীয়রা। অভ্যন্তরিন কলোহে কয়েকজন শিক্ষক চাকুরী ছেড়ে অন্য মাদরাসায় চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী কমেছে বলে তাদের দাবী।
অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ শত দাবী করলেও  কাগজে কলমে দেখা যায় শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ২৩১ জন। করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্টান চালু হলে মাদরাসা থেকে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয় তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখা যায় ২০৪ জন। তবে পর পর তিন দিন সরোজমিনে গিয়ে মোট ৫৮ জন শিক্ষার্থী  উপস্থিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেনীতে ৪ জন, ৫ম শ্রেনীতে ৩ জন, ৬ষ্ট শ্রেনীতে ১৩ জন,৭ম শ্রেনীতে ২৩ জন, ৮ম শ্রেনীতে ১১ জন, ৯ম শ্রেনীতে ১০জন, ১০ম শ্রেনীতে ৪ জন ও আলিমে ১জন। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৫৩ জন। প্রতি মাসে শিক্ষক কর্মচারীর সরকার থেকে বেতন দেয়া হয় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।  এক প্রকার বসে বসেই বেতন নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এবতেদায়ী, ফাজিল ও কামিল শাখায় শিক্ষার্থী শুন্য থাকলেও পাশেই সাতদরগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাতদরগা বালিকা আলিম মাদরাসায় শিক্ষার্থীতে পরিপুর্ন। আলিম শাখায় উপস্থিত একমাত্র শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা জানান, আগে ৫ জন ছিল এখন তারাও আসে না। আলীম শাখায়  কাগজে কলমে শিক্ষার্থীর ভর্ত্তি সংখ্যা ৩৩ জন। ফাজিল বিভাগে ১১২ জন ও কামিল বিভাগে ১১২ জন, এবতেদায়ী ১ম শ্রেনীতে ৪০জন, ২য় শ্রেনীতে ৪৫জন,ও ৩য় শ্রেনীতে ৪১ শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে ২০০৭ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা  ক্লাশ আসে না বলে অধ্যক্ষ স্বীকার করেন।
২০০৭ সালে কমিটির অধিকাংশ সদস্যের বিরোধিতা উপেক্ষা করে  মাও. আবুল কাশেমকে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় শিক্ষক ও কমিটির মধ্যে দলাদলি, অধ্যক্ষ নিয়োগ, কমিটি গঠন ও নানা অনিয়ম বিষয়ে ১২টি মামলার উদ্ভব হয়।। এর মধ্যে ১১টি মামলা হাইকোট পযর্ন্ত গিয়ে নিস্পত্তি হলেও কমিটির বিরুদ্ধে করা মামলাটি চলমান রয়েছে। কমিটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী শিক্ষক মোঃ মুহেব্বুল হাসান করিমীর অভিযোগ অযোগ্য অধ্যক্ষের উদাসীনতার কারনেই প্রতিষ্ঠানটির এমন দুরবস্থা।
অবিভাবক সমাবেশ,শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করার নিদের্শনা থাকলেও শিক্ষকরা তা করেন না। বাংলা বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম দাবী করেন শিক্ষার্থীদের ফোন করে আসতে বলা হলেও তারা আসছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, এবতেদায়ী ও দাখিল পর্যায়ে শিক্ষক সংকট  তেমন না থাকলেও ফাজিল ও কামিল শাখায় বাংলা, ইংরাজী, অংক, আরবী, রসায়ন, পদার্থ, ইসলামের ইতিহাস ও জীব বিজ্ঞান বিভাগে ৭ জন শিক্ষক নেই। এছাড়া বেশ কয়েকজন কর্মচারীর পদ দীর্ঘ দিন থেকে শুন্য রয়েছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদ্যস  কামরুজ্জামান জানান, অধ্যক্ষ নিয়োগে জঠিলতা, শিক্ষকদের দলাদলির কারনে প্রতিষ্টানটির বেহাল অবস্থা।
অধ্যক্ষ মোঃ আবুল কাশেম বলেন, আমি নিয়োগ পাওয়ার পরে সাবেক অধ্যক্ষের আমলে মাদরাসার ৫৪ একর জমি বেহাত হওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করা হয়। মামলা সামাল দিতে গিয়ে আভ্যন্তরিন সংকট ও করোনার কারনে শিক্ষার্থী কমেছে। অনেক চেষ্টা করেও তাদের আনা যাচ্ছে না। তবে সকলের সহযোগিতা পেলে সমস্যার সমাধান করা যাবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান গত ০৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী বাড়ানোর প্রযোজনীয় পরামর্শ দিয়েছি।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam