তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

দিনবদলের সনদেই সমৃদ্ধি

  • প্রকাশ বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২.৪৪ পিএম
  • ৩৫ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪ ডট কম ডেস্ক: ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। ‘দিনবদলের সনদ’ শিরোনামে ওই নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের আদলে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার ঘোষিত ওই সনদে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান ছিল। ছিল ভিশন-২০২১।

শেখ হাসিনার দেখানো নতুন বাংলাদেশের সে স্বপ্ন মানুষকে আশাবাদী করে তোলে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনার ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো সেই স্বপ্নের সুফল পেতে শুরু করেছে দেশ ও দেশের মানুষ।

নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়ে তোলার অভিপ্রায়ে তিনি একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন, বাস্তবায়নও করছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম মেয়াদেই দৃশ্যমান করে তোলে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার। মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন। ইন্টারনেট জগতে বাংলাদেশ চতুর্থ প্রজন্মে (৪-জি) আছে। পঞ্চম প্রজন্মে (৫-জি) প্রবেশও আর বেশি দূরে নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, সার্ভিস ও আউটসোর্সিংয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এ সরকারের সময়ে। লার্নিং ও আর্নিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ কোটির ওপরে মোবাইল সিম ব্যবহার হয়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের সংখ্যা পাঁচ কোটি। গড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান পণ্য বেচাকেনা করছে। ৫০ হাজার মানুষ এ খাতে ব্যবসা করছে।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন বাংলাদেশে। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। দেশের ছয় লাখ মানুষ আউটসোর্সিং করে আয় করছে।

দেশে বিদ্যুতের বিশাল ঘাটতির বোঝা মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন উন্নয়নের পূর্বশর্ত বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে শেখ হাসিনার সরকার এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে গেছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার সরকার ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে জাদুকরী উন্নতি হয় বিদ্যুৎ খাতে। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে শুরু করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশে বিদ্যুতায়ন এখন শতভাগ।

আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। সরকারের মেগা প্রকল্পের মধ্যে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। মাতারবাড়ী ও ঢালঘাটা ইউনিয়নের ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। নির্মাণাধীন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ প্রায় শেষের দিকে। রামপালে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। রয়েছে পায়রা বিদ্যুৎ প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৮১ সালে যখন আওয়ামী লীগ আমাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করেছে, তখন থেকেই দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করেছি। যখন ক্ষমতায় ছিলাম না, তখনো পরিকল্পনা করেছি। ক্ষমতায় এলে কীভাবে দেশের মানুষের উন্নয়ন করা যায়, এ নিয়ে অনেক লেখাও আছে আমার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করেছি। আজ দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে।’

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়ায় কটূক্তি শুনতে হয়েছে। সব কটূক্তির পরও ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজ আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি।’

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকে আধুনিক অবকাঠামো সমৃদ্ধশালী করে তোলা হচ্ছে। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে পারমাণবিক বিশ্বে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে জায়গা নিয়েছে মহাকাশে।

আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকেই মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে সত্যিই মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর আদলে এসেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন শেখ হাসিনার শত্রুর কাছেও প্রশংসিত। এ ছাড়াও হাতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ।

বিশ^ব্যাংক সরে যাওয়ার পরও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে গর্বের প্রতীক হয়ে। উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বব্যাংকের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এ সেতুর কাজ শেষ করে উদ্বোধনও করে ফেলেছে, যা খুলে দিয়েছে ২১ জেলার উন্নয়নের দুয়ার। এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে শেখ হাসিনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগ নতুন যুগের সূচনা করেছে এবং ওই অঞ্চলের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে।

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সরকারের আরেক চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প দেশের সর্ববৃহৎ এবং প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। যা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ হাসিনা পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিশ্বে পদার্পণ করে এবং বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের সদস্য পদ লাভ করে। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। বিশিষ্টজনদের মতে, এ প্রকল্প সরকারের গত ১২ বছরের সফলতার বড় একটি দিক। স্যাটেলাইট বিশ্বে প্রবেশের পর বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফলশ্রুতিতেই এ সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে দ্রুত এগিয়ে নিতে কৃষি, শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের শেখ হাসিনার দৃষ্টি রয়েছে। রাজধানী এবং রাজধানীর বাইরে বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে বিবেচনায় নিয়ে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের প্রসারে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা শেখ হাসিনার বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রাজধানীতে যানজট দূর করতে নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল এ মেট্রোরেল এখন দৃশ্যমান। ঢাকার উপকণ্ঠ হেমায়েতপুর থেকে গুলশান হয়ে ভাটারা এবং বিমানবন্দর থেকে রামপুরা হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত আরও দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প হাতে নেওয়া আছে। নির্মাণ হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলেছে দ্রুত। এ বছরই উদ্বোধনের কথা রয়েছে এই টানেল, যা কর্ণফুলী অন্য পাড়কে চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে যুক্ত করবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করেন, মেগা প্রকল্প বদলে দেবে বাংলাদেশের দৃশ্যপট ও অর্থনীতির গতিধারা।

শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে আধুনিকায়ন করেছেন। ওই বন্দরের ওপর চাপ কমাতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণকাজ চলমান। ২০২৩ সালের মধ্যে ১৬ মিটার গভীরতায় চ্যানেল ড্রেজিং সম্পন্ন করে বন্দর গড়ে তোলা হবে। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ সমুদ্রবন্দরটি নির্মাণের জন্য কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা শেষ করেছে জাপানের প্যাসিফিক কনসালট্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল (পিসিআই)। গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) পদ্ধতিতে এ বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন খাতে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে সরকার নিয়েছে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি তো রয়েছেই।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam