তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

মাঠে প্রতি কেজি লবণ ১১ টাকা, প্যাকেটজাত ৩৮!

  • প্রকাশ বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪.০২ এএম
  • ১৯ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত প্যাকেটজাত লবণের দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়েছে। বাজারে এখন এসিআই, ফ্রেশ, তীর, কনফিডেন্সসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত লবণ এই বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি বছর মাঠ পর্যায়ে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হয়েছে। একই সঙ্গে দামও অনেক কম, প্রতি কেজি মাত্র ১১ টাকা। তাই পাইকারি ও খুচরা বাজারে লবণের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক বছরে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম ওঠানামা করলেও প্যাকেটজাত লবণের দাম বাড়েনি। এখন বাজারে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে গত মাসের শুরুতে প্যাকেটজাত লবণের দাম বেড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, উল্লিখিত ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ ৩৮ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা দেড় মাস আগে ছিল ৩৫ টাকা। রাজধানীর দক্ষিণ কুড়িল এলাকার জোয়ারসাহারা বাজারে বিসমিল্লাহ স্টোরের ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় পর বাজারে প্যাকেটজাত লবণের দাম বেড়েছে। সব কম্পানি একসঙ্গে কেজিতে তিন টাকা বাড়িয়ে প্যাকেটের গায়ে মূল্য ৩৮ টাকা করেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘পাইকারিতে ২৫ কেজির একটি বস্তায় লবণের দাম ৫০ টাকা বেড়েছে। ৭৫০ টাকার বস্তা এখন ৮০০ টাকায় কিনে আনতে হচ্ছে। ’

মিল মালিকরা বলছেন, মিল পর্যায়ে লবণের দাম বাড়েনি। এখনো ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে লবণ বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি আবু হানিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘মিল পর্যায়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই লবণের দাম স্থিতিশীল। দাম বাড়ানো হয়নি। যেসব কম্পানি প্যাকেটজাত করে লবণ বাজারজাত করছে, তারা হয়তো বর্তমানে অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করছে। ’দাম বাড়ার কারণ হিসেবে প্যাকেটজাত লবণ প্রস্তুতকারী কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পণ্য পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই প্যাকেটজাত লবণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

কক্সবাজার থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, মাঠ পর্যায়ে লবণের দামের সঙ্গে বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ব্যবধান সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৭ টাকা হয়েছে। এর মাধ্যমে কিছু প্যাকেটজাত লবণ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঠে এখন প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করা হচ্ছে ১১ টাকা দরে। ভোক্তারা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ ৩৮ টাকা দরে কিনছে। কক্সবাজারের লবণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভোক্তা পর্যায়ে লবণ বাজারজাতকরণেও গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। আধুনিক ক্রাশিং মিলে লবণ প্রক্রিয়াকরণের অজুহাতে সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামশুল আলম আজাদ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, দেশে তিন ধরনের লবণ রয়েছে বাজারে। ভ্যাকুয়াম লবণ, মেকানিক্যাল লবণ ও অর্গানিক লবণ। তিনি বলেন, ভ্যাকুয়াম পদ্বতিতে লবণকে প্রথমে পানির মতো গলিয়ে ফেলা হয়। পরে আধুনিক মেশিনে দিয়ে সাদা লবণ প্যাকেটজাত করা হয়। এ পদ্ধতিতে কেমিক্যাল ও আয়োডিন ব্যবহার করা হয়। মেশিনে ক্রাশের পর প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হয় মেকানিক্যাল লবণ। আর হাতে পরিষ্কার করে যেটি প্যাকেটজাত করা হয়, সেটি অর্গানিক লবণ। বর্তমানে প্রতি কেজি ভ্যাকুয়াম লবণের দাম ৩৮ টাকা, মেকানিক্যাল লবণ ২৮ টাকা ও অর্গানিক ১৫ টাকা।

দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ভ্যাকুয়াম লবণ প্রস্তুতকারক কম্পানি এসিআইয়ের বিপণন পরিচালক কামরুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ঢাকায় ক্রুড লবণ কিনছি প্রতি মণ ৫০০ টাকা দরে। তার ওপর ১০০ কেজি লবণকে ভ্যাকুয়াম লবণে পরিণত করতে গিয়ে পাওয়া যায় মাত্র ৫৮ থেকে ৬০ কেজি। এ ঘাটতি মেটাতে গিয়ে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ’তিনি বলেন, আয়োডিন ও নানা কেমিক্যাল ব্যবহারেও অতিরিক্ত খরচ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক কেজি লবণ প্যাকেট করতেই খরচ পড়ছে ৩২ টাকা। তবে লবণের দাম কমলে প্যাকেটজাত লবণের দাম কমানো হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য মতে, এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৫৭ হাজার টন। বিসিক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কী কারণে লবণের দাম বাড়িয়েছে, এই বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। ’কক্সবাজারের বিসিক লবণ প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জাফর ইকবাল ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৬২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে গেল মৌসুমে ১৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এখনো মাঠে লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি সাড়ে ১০ থেকে ১১ টাকা দরে। মাঠ পর্যায়ে দাম এত কম থাকার পরও প্যাকেটজাত লবণের দাম বাড়ানোর বিষয়টি একটু বেশি হয়ে গেল। ’

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে কুতুবদিয়া, রাজাখালী ও টেকনাফের মাঠে উৎপাদিত নতুন লবণ বাজারে আসবে। বর্তমানে মাঠে দেড় লাখেরও বেশি, মিলে দেড় লাখ এবং আমদানি করা দেড় লাখ মেট্রিক টনসহ কমপক্ষে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন লবণ রয়েছে। সুতরাং উৎপাদন মৌসুম পর্যন্ত ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam