তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

যমুনা নদীতে ভাসমান পাটের হাট, দাম ভালো থাকায় কৃষকের হাসি

  • প্রকাশ বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫.৪২ এএম
  • ১৮ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪ ডট কম ডেস্ক:  সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীতে নৌকায় ভাসমান পাটের (সোনালী আঁশ) হাট জমে উঠেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ওই উপজেলার নাটোয়ারপাড়া হাটের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীতে এ পাটের হাট বসেছে। এ হাটে পাটের দাম এখন ভালো থাকায় কুষকের মুখে হাসিও ফুটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে পাটের চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় এ জেলায় পাট চাষে ঝুকে পড়েছে কৃষকেরা। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ভারতের মহারাষ্ট্র ও দেশীয় পাটসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের পাট চাষাবাদ হয়েছে। এ জেলার কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সবচেয়ে বেশি এ পাট চাষাবাদ হয়েছে। তবে এবার নদী নালাতে পানি কম থাকায় পাট জাগ দিয়ে এ সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কৃষকের। এ পাট স্থানীয় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে কৃষকেরা। বিশেষ করে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজিপুর উপজেলার ওই যমুনা নদীতে নৌকায় ভাসমান হাটে পাট কেনা বেচা জমে উঠেছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন শনিবার ও বুধবার এ হাট বসে।

সিরাজগঞ্জসহ বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনট, শেরপুর, জামালপুরের সরিষাবাড়ি, মাদারগঞ্জ, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারি থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকাযোগে পাট ক্রয়-বিক্রয় করতে এ ভাসমান হাটে আসেন। এ হাটে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫’শ টাকা থেকে ২৬’শ টাকা। গড়ে এ পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ হাটের অনেক পাট ব্যবসায়ী বলছেন, পাট কিনে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় তোলা সহজ। এতে যোগাযোগের সুবিধা ও পরিবহন খরচও কম হয়ে থাকে। প্রতিবছর এ হাট বসায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দেরও সৃষ্টি হয় এবং নিরাপদে এ পাট ক্রয় বিক্রয় করা যায়। হাট ইজারাদার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন বলেন, নৌকায় এ ভাসমান প্রতি হাটে প্রায় ২ হাজার মণ পাট ক্রয়-বিক্রয় হয়। এ হাটে পাট ক্রয়-বিক্রয়ের মৌসূম আগষ্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। এছাড়া হাটের জমিনেও কেনা বেচা হয় কৃষকের পাট। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সামান্য খাজনা আদায় করা হয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম সরকারসহ অনেকেই এ হাট নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে থাকেন।

এ বিষয়ে কাজিপুর থানার ওসি শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, যমুনা নদী এলাকার নাটোয়ারপাড়া হাটের দিন পুলিশি টহল জোরদার করা হয় এবং বিশেষ করে পাট ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় নজর রাখা হয়। এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, এবার জেলায় ১৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে দেশী পাটসহ বিভিন্ন উন্নতজাতের পাট চাষাবদ করেছে কৃষকেরা। তবে বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হলেও পাটের দাম ভালো থাকায় কুষকেরা খুশি। নাটোয়ারপাড়া হাট কমিটির নিয়ন্ত্রনে যমুনা নদীতে নৌকায় ভাসমান এ পাটরে হাট লাগে প্রতিবছর। এ মৌসূমী পাটের হাট প্রায় ৩ মাস স্থায়ী থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam