তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

সর্বস্ব হারানো কন্যা থেকে সর্বজয়ী নেতা

  • প্রকাশ বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২.৪৩ পিএম
  • ৩৪ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪ ডট কম ডেস্ক: রাজনীতি ও রাষ্ট্র চালনায় অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪২ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যেমন সফল হয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন তিনি।

আজ বুধবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়ানো শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শুধু রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নয়, পারিবারিক জীবনেও সফল শেখ হাসিনা। রাজনীতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন তিনি।

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি সম্মোহনী, উদ্ভাবনী, সাহসী দিকনির্দেশক নেতা। তিনি ঘটনাক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকারপ্রধান। বাঙালি অনেক কিছু পেয়েছে তার কাছ থেকে।’

শেখ হাসিনার কাছে বাঙালির ঋণ অপরিশোধিত উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি না এলে কখনোই বঙ্গবন্ধুর খুনি ও মানবতাবিরোধীদের বিচার হতো না। তার সাহসী নেতৃত্বের কাছে আমরা ঋণী। শেখ হাসিনা আমাদের জন্য বিকল্পহীন নেতা এই মুহূর্তে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. অনুপম সেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক গুরুত্ব দেন। বিদ্যুৎ এবং শিক্ষা জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে এক অসম সাহসী ভূমিকা গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তাই বাংলাদেশ আজকে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরাট অবদান রয়েছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের উন্নয়নের অকল্পনীয় মডেল হিসেবে মর্যাদা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সর্বস্তরে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যাকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সোপান বলা যায়। আজকে দেশের ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের আওতাভুক্ত। আইটি শিক্ষার প্রসার ঘটছে। নতুন বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, নারী শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা তার কৃতিত্ব।’

সমাজবিজ্ঞানের এ শিক্ষক বলেন, করোনা মহামারী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রায় জয় করে ফেলেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকুচিত হতে দেননি বরং প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ওপরে ছিল। তিনি পরিবেশ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মহলে সোচ্চার ছিলেন। নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু (কর্ণফুলী) টানেল, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী এক দশক শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হবে। শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে অনুপম সেন বলেন, ‘দেশরতœ শেখ হাসিনা শতায়ু হোন। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হোক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমসাময়িক বিশ্বে শেখ হাসিনার মতো নেতা পাওয়া যায় না। যেই পার্টি নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল, সেই পার্টির হাল ধরে পুনঃজনপ্রিয় করা ও ক্ষমতায় নিয়ে আসা দুরূহ ব্যাপার।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারিবারিক ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে উঠে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন ১৯৮১ সালে। বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব দূর করতে হয়েছে। আবার ক্ষমতায় এসে দেশকে উন্নয়নমুখী করা ও দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মডেল হিসেবে দাঁড় করানো শেখ হাসিনার বড় অর্জন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং উগ্রবাদবিরোধী লড়াইয়ে শেখ হাসিনা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য দিক।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি এসেছে। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করারও চেষ্টা হয়েছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা তার উদাহরণ।’

পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন, দেশজুড়ে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, দেশকে ইনফরমেশন টেকনোলজির আওতায় নিয়ে আসা, করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গি দমন, জলবায়ু তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার, আর্থিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মানবিক ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বিশ্বসভায় শেখ হাসিনা প্রশংসিত এবং তার নেতৃত্ব এখন বলিষ্ঠ। প্রভাবশালী দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা তাকে সমীহ করেন।

বাংলাদেশকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে এবং সেসব বাস্তবায়ন করে তিনি সারা বিশ্বেই প্রশংসিত। তার যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি এনে দিয়েছে। করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ উপাধি জমা পড়েছে তার ঝুড়িতে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দক্ষতার প্রশংসা করে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি এবং বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এসবের মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’, ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’, ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত করা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেছে। দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয় ১৯৯৯ সালে। অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর তৎকালীন মহাপরিচালক ফেদেরিকো মেয়র বলেছিলেন, ‘জাতি গঠনে আপনার পিতার অনুসৃত পথ অবলম্বন করে আপনি দেশকে শান্তি ও পুনর্মিলনের পথে নিয়ে গেছেন। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার উদ্যোগ ও নিষ্ঠা বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এবং সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে (এসডিজি) এগিয়ে চলায় শেখ হাসিনা ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ পেয়েছেন। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘এত ঘটনা-দুর্ঘটনার পরও যে আওয়ামী লীগ টিকে আছে এবং টানা ১২ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় আছে এ কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে শেখ হাসিনার।’ তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে আরও দুটো জিনিস যোগ না করলে হবে না। প্রথমত, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার; দ্বিতীয়ত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এ কাজগুলো শেখ হাসিনার অসাধারণ কৃতিত্বের স্মারক। যারা খুঁত আবিষ্কারের বিশেষজ্ঞ তাদের অনেক রকমের কথাবার্তা থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমার মনে যে প্রশ্ন নেই তাও তো নয়।’

তিনি বলেন, ‘নানা সময় নানা রকমের ঝঞ্ঝার মধ্যে দিয়ে এই দল গিয়েছে। যখন শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরেন এই দল আর ভাঙেনি। এর কৃতিত্ব ওনাকে দিতেই হবে।’

গত এক যুগ রাষ্ট্র পরিচালনার কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করে শান্তনু মজুমদার বলেন, বৈষম্যের প্রশ্নটা আছে এ ক্ষেত্রে বলব যে, বৈষম্য হচ্ছে একটি ‘গ্লোবাল থ্রেট’। তবে গত ১০-১২ বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ‘হাইলি মেনশনেবল’। রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আছে, কিন্তু সমাজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোন জায়গায়Ñ এ প্রসঙ্গে জানতে ইচ্ছে করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কাছে জাতির আশা, সামনে যে নির্বাচন সেটা যেন আর প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। কামনা করি, উনি আরও দীর্ঘকাল জাতিকে দেবেন। সমাজে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের যে মূলনীতি তা প্রসারিত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে এবং বৈষম্য দূর হয়েছে।’

৭৩ বছরের প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ৪২ বছর ধরেই চলছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তিনি চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিকবার বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসেছেন। দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে নামিয়েছেন। শিক্ষার হার বাড়িয়েছেন। এক যুগে বাংলাদেশকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীনদের ভূমিসহ পাকা ঘর উপহার দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা শেখ হাসিনার শাসনের আরেকটি মাইলফলক।

শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে দলের নেতৃত্ব হাতে নেন ১৯৮১ সালে। ওই বছরের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সারা দেশ ঘুরে দলকে পুনর্গঠিত করেন তিনি।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেওয়া, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয় লাভ এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ, পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার পর বিনা রক্তপাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, পরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রোষানলে পড়ে অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে গ্রেনেড হামলার শিকার হওয়া, ওই হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মীর প্রাণ হারানো এসব ঘটনার সাক্ষী তিনি। এরপর সেনা-সমর্থিত ফখরুদ্দীনের সরকার ক্ষমতায় আসে। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন তিনি। শেখ হাসিনা দমে না গিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অনড় অবস্থান নেন। ফখরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি হয়। ২০০৮ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনাসমর্থিত সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় লাভ করেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরপর টানা আরও দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে উচ্চপ্রবৃদ্ধির ধারায় নিয়ে আসা এবং প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভালো জায়গায় নিয়ে আসা তার কৃতিত্ব। পৃথিবীর আর কোনো নেতা-নেত্রীর পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনা এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সিনিয়র লিডার হিসেবে পরিচিত।’

নারী উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে বাংলাদেশকে নিয়ে অনেকে হতাশ ছিল, শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন, তা বাস্তবে রূপ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বড় অবদান আছে। আমি আশা করি, ইতিহাস শেখ হাসিনাকে সেভাবেই দেখবে। উনি যতদিন বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের সমৃিদ্ধ আসতে থাকবে। বিশ^শান্তিতে শেখ হাসিনার জোরালো অবস্থান ও এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে আসতে পারার কৃতিত্ব তার একার।’

এ অধ্যাপক বলেন, ‘পৃথিবীতে খুব কম দেশই আছে যাদের কোনো শত্রু নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখ হাসিনার সুনাম ও সফলতা এখানেই। এখন পর্যন্ত সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পেরেছেন তিনি। বিশ্ব বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ একটি শান্তির অবস্থানে আছে। তার আরও বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে তার অবস্থানে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুদ্ধে সমাধান নেই। কারও পক্ষে যাননি তিনি। এ অবস্থান বিশ্বের কয়জন নেতা নিতে পেরেছেন?’

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam