তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ এক যুগ ধরে রোজা করে আসছেন আব্দুল মালেক

  • প্রকাশ রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ৪.০০ এএম
  • ১৩ বার ভিউ হয়েছে

মমিনুল ইসলাম বাবু কুড়িগ্রাম ঃ

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার কাঠাঁলবাড়ি ইউনিয়নের শিবরাম (কুয়েত পল্লী) গ্রামে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে রোজা করে আসছেন মোঃ আব্দুল মালেক( ৩৭)।তিনি ওই গ্রামের দিনমজুর মোঃ মনির উদ্দিনের ছেলে।

আব্দুল মালেক জন্মগত অন্ধ।অর্থ ও খাবারের অভাবের কারনে গত এক যুগ ধরে নিয়মিত রোজা রাখলেও এখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ তাআ’লার সন্তুষ্টি লাভের আশায় রোজা রাখবেন বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে ক্বারী মোঃ আব্দুল মালেকের সাথে তিনি কথা হলে তিনি বলেন,জন্মগত ভাবে আমার ডান চোখ অন্ধ ছিল।এক চোখ দিয়ে আমি কোন রকম পড়াশোনা করে রংপুরের বোতলা পাড়া তালিমুল কোরআনিয়া মাদ্রাসা থেকে ক্বারীয়ানায় ২য় বিভাগে পাশ করি।বাবা দিনমজুর হওয়ায় সংসারের হাল ধরতে এলাকায় বাচ্চাদের প্রাইভেট টিউশনি পড়িয়ে সংসার চালাতাম।এছাড়াও আমাদের ইউনিয়নের কাঠাঁলবাড়ি কাজী পাড়া, মন্ডলপাড়া ও শিবরাম খামার পাড়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে সময় ভেদে ইমামতি করে আয় করতাম।তখন সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসা শুরু করে।এর পর বিয়ে করি।বিয়ের দু বছরের মাথায় আমার ডান চোখের অন্ধতার প্রভাবে বাম চোখও নষ্ট হয়ে যায়।বাবা বৃদ্ধ মানুষ। সংসারে উপার্জন করার কেউ না থাকায় সংসারে আবার কষ্ট শুরু হয়।সেই থেকে আমি রোজা রাখা শুরু করি। আমি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে রোজা করে আসছি।শুধু মাত্র দুই ঈদে ৫ দিন রোজা থাকি না।এসময় রোজা রাখা হারাম।

তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রী, তিন সন্তান ও বাবা মাকে নিয়ে আমার সংসার।বাবা অপারেশনের রোগী কাজ করতে পারে না।আমরা স্ত্রী সন্তান কোন দিন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটায়। বড় মেয়ে মীমের বয়স ১১ বছর  ছোট মেয়ে লামিয়া ৭ বছর ওরা হাফিজীয়া মাদ্রাসা পড়ে।আমরা নিজেরা খেতে পারি না ওদের ভরন পোষন ও পড়াশোনা খরচ আমার জন্য দুঃস্বাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে।আমার পরিবারের জন্য দোআ কামনা করছি।

ক্বারী মোঃ আব্দুল মালেকের স্ত্রী মোছাঃ বিলকিস বেগম বলেন,আমার বিয়ের ১৪ বছর হলো।বিয়ের ২ বছর পর থেকে আমার স্বামী নিয়মিত রোজা রেখে আসছেন।আমাদের অভাবী সংসার।শ্বশুর শ্বাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। আমার স্বামী ১২ বছর ধরে রোজা করে আসছেন। দুই ঈদের ৫ দিন বাদ সারা বছর তিনি রোজা রাখেন।

প্রতিবেশী মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন,আব্দুল মালেক প্রায় ১০-১২ বছ৷ ধরে রোজা করে আসছেন।জন্মগতভাবে ডান তার চোখ অন্ধ ছিল।আগে এক চোখ দিয়ে দেখতো।বাচ্চাদের আরবি শিখানো বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করে সংসার চালাতো।দুচোখ যখন পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায় তখন তার কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। ভিক্ষা করতে পারে না। তার কোন ছেলে নেই যে, তাকে ভিক্ষা করতে নিয়ে যাবে।ঢাকার এক ব্যাক্তি আব্দুল মালেকের ঘর বাড়ি তুলে দিয়েছে।কিন্তু বাচ্চাদের পড়াশোনা ও সংসার চালানোর মত আয়ের পথ না থাকায় খুব কষ্টে আছেন তিনি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের ফজলুল করিম (রহ.) জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, একটানা দীর্ঘদিন রোজা রাখা ইসলামি মতে মাকরুহ। তবে বিরতি দিয়ে রোজা রাখা উত্তম।

কাঁঠাল বাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেদওয়ানুল হক দুলাল বলেন,আব্দুল মালেকের নামে প্রতিবন্ধি ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।এরপরও কোন সুযোগ সুবিধা আসলে ওই পরিবারকে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam