তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

পলাশবাড়ীর ভার্মি কম্পোষ্ট সার যাছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় 

  • প্রকাশ শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২, ১২.০৪ পিএম
  • ১০ বার ভিউ হয়েছে
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোষ্ট জৈব সার যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এলাকার মানুষ ভার্মি কম্পোষ্টের গুনাগুন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ায় কৃষকেরা ইতিমধ্যে ভার্মি কম্পোষ্টের ব‍্যবহার শুরু করে দিয়েছেন।
উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের দোকানঘর (কেত্তার পাড়া)কৃষি কালেকশন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়,উক্ত কালেকশন পয়েন্টের পরিচালক ও ভার্মি কম্পোষ্ট কেঁচো সারের সফল উদ‍্যোক্তা রফিকুল ইসলামের তৈরীকৃত কম্পোষ্ট সার চলে যাচ্ছে যশোরে। ২০১৫ সালে অত্রাঞ্চলের অসহায়,হতদরিদ্র,বিধবা-স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের নিয়ে কেত্তারপাড়া সিআইজি(মহিলা)ফসল সমবায় সমিতির জৈব সার কালেকশন পয়েন্ট। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ন‍্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ প্রজেক্ট (এনটিপি-২)জৈব সার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাড়ী বাড়ী ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার)এর সেড তুলতে সাহায্য করেন সফল উদোক্তা ও কৃষি কালেশন পয়েন্টের পরিচালক রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন,আমরা ২০০৭ সালে ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার) এর প্রজেক্ট শুরু করি। বতর্মানে একটি সেডে ভার্মি কম্পোষ্ট ও ট্রাইকো কম্পোষ্ট করছি। আমার এ কলেকশন পয়েন্টের আন্ডারে প্রায় হাজার খানেক মহিলা বাড়িতে সেড তৈরী করে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলন্বি হচ্ছে। আমি প্রথমে বেশি দামে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে কেঁচো কিনি। গোবর তিন মাস পঁচিয়ে গন্ধমুক্ত করে নিতে হয়।এরপর কেঁচোর খাদ্য হিসেবে এ গন্ধমুক্ত গোবর বেডে দেই। পাঁচ -সাত দিন পর পর গোবর উল্টে পাল্টে দেই। এরপর পরিমাণমতো পানি দেই। ত্রিশ থেকে চল্লিশ দিনের মধ্যে কম্পোস্ট সার প্রস্তুত হয়ে যায়।সেই কম্পোষ্ট সার ঢেলে কেঁচো আলাদা করে ফেলে বেডে দিয়ে দেই। তবে সাতদিন পর পর গোবর ঠিকমতো উল্টে-পাল্টে দিলে পুরো বেডের সারই একসাথে তুলে নেওয়া যায়। ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদনে আমরা নিজেদের খামারের গোবর ব‍্যবহার করি।প্রতিমাসে টনে টনে ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন করি। স্থানীয়ভাবে খোলা ভার্মি কম্পোষ্ট ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।আমার এ কৃষি কালেকশন পয়েন্ট থেকে ট্রাকে ট্রাকে ভার্মি কম্পোষ্ট সার দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার পাইকেররা এসে নিয়ে যায়।বিশেষ করে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষী ও নার্সারি মালিকেরাই এই ভার্মি কম্পোষ্টের প্রধান ক্রেতা। তারা কিনে নিজেরা ব‍্যবহার করেন এবং পাশাপাশি বিক্রিও করেন। হাউজের আকারভেদে এক একটি হাউজে ১৫ থেকে ২০ মনের মতো শোধন করা গোবর দিতে হয়। প্রতি টন পাইকারি বিক্রি হয় ৮ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা কাওসার মিশু জানান,এপিজেনকি এবং এন্ড্রোজেনকি জাতের লাল কেঁচোর মাধ্যমে গরু,মহিষের গোবর,সবজির উচ্ছিষ্টাংশ,আর্বজনা,লতাপাতা,কাগজ,
কচুরিপানা এমনকি কলাগাছ সহযোগেও ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন করা যায়। রাসায়নিক সারের ব‍্যবহার কমাতে এবং জৈব সার হিসেবে ফসলে ও গাছে এ কম্পোষ্টে গাছের প্রয়োজনীয় ১৬ টি খাদ্য উপাদান থাকায় তা ফসলের পুষ্টিমান বাড়িয়ে দেয়। এটি মাটির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ফলে জমি পানি কম শৌষণ করে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। ভার্মি কম্পোষ্ট মাটিতে কেঁচোর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। যেহেতু কেঁচোর মাটির অনুজীবগুলোকে কর্মক্ষম করে সেহেতু
ভার্মি কম্পোষ্ট উদ্ভিদের জন‍্য উপযোগী। ভার্মি কম্পোষ্টের ব‍্যবহারে উদ্ভিদে রোগ বালাইয়ের প্রার্দুভাব ও কমে যায়। ভার্মি কম্পোষ্ট মাটির ভৌত রাসায়নিক ও জৈবিক গুনাগুন বৃদ্ধি করে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam