তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে নিপূণ হাতে ভাস্কর্য তৈরি করেছে শ্রীমঙ্গলের সবুজ তজু

  • প্রকাশ শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২, ১.১০ পিএম
  • ২৫ বার ভিউ হয়েছে

এম.মুসলিম চৌধুরী,শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খশীতে আত্মহারা দিনমজুর সবুজ তজু। মাথা গুজার ঠাই পেয়ে গাছের গুড়ি সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ভাস্কর্য তৈরি করছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রত্যান্ত হরিণছড়ার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্টির যুবক সবুজ তজু। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাস্কর্য দেখতে প্রতিদিনই তার বাড়িতে ছুঠে যাচ্ছেন অনেক দর্শনার্থী। সীমান্তবর্তী হরিণছড়া চা বাগানে ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্টীর অধিবাসী দিন মজুর সবুজ তজু ছোট বেলা থেকেই কুর্টির শিল্প সামগ্রী তৈরীতে পারদর্শী। ছবি আঁকাও তার নেশা। জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্টীর সমন্বয়ক তাজুল ইসলামের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি ঘর উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে তজু পরিবারের যেন আনন্দের সীমা নেই। সবুজ তজু তখন প্রধানমন্ত্রীকে তার একটি ভাস্কর্য তৈরি করে উপহার দেওয়ার কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে উৎসাহ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবিও উপহার দেন। সবুজ এই ছবি দেখে প্রধানমন্ত্রীর চমৎকার একটি ভাস্কর্য তৈরী করেন। সবুজ তজু জানান, প্রায় দেড়মাস ধরে একটি গাছ খোদাই করে ৪৩ ইঞ্চি লম্বা প্রধানমন্ত্রীর হাস্যউজ্জ্বল একটি নিঁখুত ভাস্কর্য তৈরী করেন। তিনি জানান, এই ভাস্কর্যটির মুখমন্ডলে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ^ নেতৃত্বের ছাপ। দেশের মানুষের আস্থার একটি জায়গা। যে চেহারায় প্রকাশ পায় সকল প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে দেশেবাসীকে দিয়েছে স্বস্তি ও শান্তির বারতা।
সবুজ তজুর স্ত্রী পুরবী রিচিল জানান, ভাঙ্গা ঘর থেকে তারা পাকা ঘরে উঠবেন এমনটা তাদের ভাবনায়ও ছিলো না। তিনি হরিণ ছড়া চা বাগানের শ্রমিক। তার স্বামীর স্থায়ী কোন কাজ নেই। মাঝে মধ্যে মানুষের ঘর রং, কাছা ঘর মেরামত ও লেবু বাগানে শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে রয়েছে। ছেলে মেয়ে গুলো ঢাকা ও শ্রীমঙ্গলে লেখা পড়া করছেন।

সবুজ তজু জানান, তাদের এই ভাবনার বিষয়টি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে উৎসাহ দেন। খুশি হয়ে তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েও সহায়তা করেন। প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবিও দেন। সবুজ তজু শুধু প্রধানন্ত্রীর ভাস্কর্য নয়, তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্বারক হিসেবে কাঠ দিয়ে মাছধরা, চা পাতা তুলা, ঘাস কাটা, পান চাষ, ডিম থেকে পাখির বাচ্চা বেড় হওয়া, জেবরা, গন্ডার, হরিণ, চা কন্যা, বঙ্গবন্ধু, লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও মা মারিয়ার মুর্তিসহ বিভিন্ন ছোট ছোট ভাস্কর্য তৈরী করেছেন। কিন্তু সংসারের টানাপড়নে তা নিয়মিত করতে পারেন না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী সমন্বয়ক তাজুল ইসলাম জানান, তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টীর কাজ করতে গিয়ে তার কুটির শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরীতে বেশ দক্ষতা লক্ষ করেন। তার তৈরী ছোটকাটো অনেক জিনিষ তিনি দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার পাশে এসে দাঁড়ান। তাকে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, সবুজ তজুর অনন্য প্রতিভা রয়েছে। তার তৈরী চা কন্যাসহ বিভিন্ন সামগ্রী আমরা সংগ্রহ করেছি। তার হাতের নিঁপুনতা অসাধারণ। তিনি জানান, তার আর্থিক সংকট রয়েছে। সে তার পরিবার নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ একটি মাটির ঘরে বসবাস করে আসছিল। তার এ অবস্থা বিবেচনায় তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘর উপহার দেন। ইতিমধ্যে ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, আমাদের নির্ভরতার প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একেবারে তৃণমুল পর্যন্ত মানুষ ভালোবাসে। সবুজ তজুর ভাস্কর্য টি তারই একটি নিদর্শন। তিনি বলেন, জিনিশটি ক্ষুদ্র হলেও এতে ভালোবাসা কোন ঘাটতি নেই। তার তৈরি করা ভাস্কর্যের বিষয়টির বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা কওে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam