তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

বদলে গেছে জীবন। পার্বতীপুরের নারী পুরুষেরা কাজের জন্য আর যাচ্ছে না ঢাকা চট্রগ্রাম।

  • প্রকাশ রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২, ৭.০৯ এএম
  • ৩৫ বার ভিউ হয়েছে
মুক্তিনিউজ২৪ ডট কম ডেস্ক :দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নিম্ন আয়ের মানুষ কয়েক বছর আগেও কাজের সন্ধানে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতেন। অনেকে কাজের অভাবে অনাহার–অর্ধাহারে দিন কাটাতেন। সংসারে ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবে দিনাজপুরেরপার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি এলাকায় সনিক কোম্পানি চালু হওয়ার পর তাঁদের অনেকের সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।দিনে দিনে বদলে যাচ্ছে বেলাইচন্ডি এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান। কারখানায় চাকরি করে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কারখানা চালু হওয়ার পর থেকে বেলাইচন্ডি এলাকার রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবন বদলে গেছে। বেড়েছে জমির দাম। ১০–১৫ বছর আগেও যেখানে প্রতি বিঘা জমি তিন লাখ থেকে চার ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন প্রতি বিঘা জমি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার ১৯ নভেম্বরসকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার কর্মীরা দলে দলে প্রবেশ করছেন কার খানায় কেউ বাইসাইকেলে, কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ ইজিবাইকে, আবার কেউ হেঁটে। পেছন ফিরে তাকানোর সময় যেন কারও নেই। সকাল আটটার মধ্যে সব কর্মীরা ঢুকে যান তাঁদের কর্মস্থলে। কাজের শেষে বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একইভাবে বের হতে থাকেন কারখানার কর্মীরা। তখন চলে তাঁদের ঘরে ফেরার প্রতিযোগিতা।
কারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা বলছেন, এখানে বেতন, উৎসব ভাতা, মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ শ্রমিকদের পাওনা সঠিক সময়ে পরিশোধ করা হয়। এ কারণে এখানে শ্রমিক অসন্তোষ নেই।
বিকেল তিনটার দিকে কার খানা গেটের সামনে জড়ো হতে থাকে ইজিবাইক, ভ্যান ও রিকশা।
এ সময় কথা হয় ভ্যান চালক আব্দুস সালাম এর (৩০) সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর বেলাই চন্ডি ইউনিয়নের বেলাইচন্ডি গ্রামে। স্ত্রী হোসনেরা বেগম প্রায় ১ বছর ধরে সনিক কারখানায় কাজ করছেন। প্রতিমাসে স্ত্রীর আয় হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন তিনি সকালে স্ত্রীকে দিয়ে যান এবং বিকেলে নিতে আসেন। স্ত্রীকে কারখানায় আনা–নেওয়ার সময় ওই এলাকার অন্য শ্রমিকেরাও আসেন। পার্বতীপুর পৌর এলাকার ধুপি পাড়া মহল্লার দুর্গার স্ত্রী আরতি (৩৮) বলেন আমার স্বামী শহীদ মিনার এলাকায় জুতা মেরামতের কাজ করেন।তা দিয়ে সংসার চলত না।আমি ৬ মাস ধরে কাজ করি।এখন আর আমাকে না খেয়ে থাকতে হয় না।
নাম প্রকাশ না করার শতে৴ কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, এ কারখানায় খেলনা গাড়ি তৈরী হচ্ছে।গাড়িগুলো বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক বলেন পার্বতীপুর উপজেলায় বেকার নারী পুরুষের সংখ্যা বেশি। কোন কল কারখানা ছিল না। মানুষ কাজের জন্য ঢাকা গিয়ে রিকসা অটো চালাত,নারীরা বেকার থাকত। কারখানাটি স্থাপিত হওয়ায় হাজার হাজার নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর পৌর সভার নব নির্বাচিত মেয়র ও শ্রমিক নেতা আমজাদ হোসেন বলেন ‘২০২০ সালে ৩০ একর জমি অধিগ্রহন করে এ কার খানা চীনা মালিকরা প্রতিষ্ঠা করেন। কারখানায় ৬০ শতাংশ শ্রমিকই নারী। এই নারীদের উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে ব্যাপক অবদান রাখছে। পৌর এলাকার ধুপিপাড়া, কুলি পাড়ার অসংখ্য নারী পুরুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেছে।তারা আর ঢাকা চট্রগ্রাম কাজের জন্য যায় না।নিজের বাড়িতে থেকে চাকুরী করতেছে।তাদের জীবন বদলে গেছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam