খালেক পারভেজ লালু,উলিপুর(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন কুড়িগ্রাম-৩
উলিপুর আসনের বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিষ্টার মাহবুবুল আলম
সালেহী। তার প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় পাল্টে গেছে ভোটের সমীকরণ । স্থানীয়
ভোটারদের ধারনা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)ও জামাত প্রার্থীর সঙ্গে ত্রিমুখি
লড়াই হবে জাতীয় পাটীর প্রার্থীর।
তিস্তা,ধরলা
ও ব্রম্মপুত্র নদী বেষ্টিত এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০। এর
মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন।
হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব উল্লেখ্য করায়। গত ১ জানুয়ারী মনোনয়ন পত্র যাচাই
বাচায়ে কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপুর্ণা
দেবনাথ জামাত প্রার্থী ব্যারিটার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন পত্র বাতিল
করেন। প্রার্থীতা ফিরে পেতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানীর শেষ
কার্য দিবসে কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেন। উলিপুর উপজেলা(একক)
নিয়ে গঠিত ২৭-কুড়িগ্রাম-৩ উলিপুর আসন। এ আসনে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর
প্রার্থী ব্যারিষ্টা মাহবুবুল আলম সালেহী সহ প্রার্থী হয়েছেন, বিএনপির
তাসভীর-উল ইসলাম, জাতীয় পাটীর আব্দুস ছোবাহান,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ডাঃ
মোঃ আক্কাছ আলীী সরকার ও গন অধিকার পরিষদের সরকার মো. নুরে এরশাদ
সিদ্দিকী।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ এ আসনে নির্বাচন
করে ব্যাপক ভোটে জয় লাভ করেন। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন। উপনির্বাচনে
এরশাদের ভাই মোজাম্মেল হক লালু নির্বাচিত হন। পরের বার জাপা থেকে নির্বাচিত
অধ্যক্ষ মও. মতিউর রহমান। তার পর তিন বার জাপা থেকে একেএম মাঈুল ইসলাম
মুকুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পর থেকে আসনটি জাতীয় পাটীর দখলে ছিল।
তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে আবার জাতীয় পাটীর প্রার্থী ডাঃ মোঃ আক্কাছ আলী
নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক এম এ
মতিন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে
গবা নির্বাচিত হন।
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাত ও জাতীয় পাটীর লাঙ্গল প্রতীক থাকলেও সাধারন
মানুষ বিএনপি প্রার্থী তাসভীর উল ইসলামকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন ভোটাররা।
তাদের ভাষ্য, এবার এ আসনে বিএনপি, জামাত ও জাপার প্রার্থীর মধ্যে
ত্রিমুখি ভোটযুদ্ধ হবে। তবে বিএনপি ও জামাত মরিয়া জাপার দুর্গ খ্যাত এ
আসনটি দখলে নিতে। জাপাও মরিয়া আসনটি দখলে রাখতে।
গত
শনিবার উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের তিস্তার জোয়ানসেতরা চরে পিয়াজ ক্ষেতে কাজ
করছেন একদল কৃষি শ্রমিক । তাদের মধ্যে কথা হয়,আব্দুস সামাদ, উমর আলী,
মহুবর রহমান ও রাবেয়া বেগমের সঙ্গে তারা জানান, বিএনপি তিস্তা নদী নিয়া
অনেক আন্দোলন করছে। হামার তিস্তা নদী বান্ধি দিবার চাইছে বিএনপির প্রার্থী
তাসভীর উল ভাই। হামরা তাকে ভোট দিমো। সংসদোত যায়া তিস্তা নদী বান্ধি
দেয়ার দাবী করবে হামরা সবাই আছি তার সাথে।
উপজেলা
বিএনপির আহবায়ক তারেক আবু আলা চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রার্থী তাসভীর উল
ইসলাম ক্লিন ইমেজের প্রার্থী এবং দরিদ্র বান্ধব। ব্যক্তিগত ভাবে এলাকার
দরিদ্র মানুষের বিনা পয়সায় চোখের চিকিৎসায় মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল, আলেকজান
মেটানিটি সেন্টার, সান পানির ফ্যাক্টরী, শিক্ষার উন্নয়নে একটি ইংরেজী
ভার্সন স্কুল প্রতিষ্টা করেছেন। তার বাবা,ডিপুটি ইসপিকার ছিলেন, বড় মাঈদুল
ইসলাম কয়েকবার মন্ত্রি ছিলেন এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছেন। সে কারনে আমরা
খুব সুবিধাজন অবস্থানে রয়েছি। এবারে নির্বাচনে প্রার্থী নিজে মানুষের বাড়ী
বাড়ী, মাঠে ঘাটে ও ময়দানে যাচ্ছেন। মানুষের অভুতপুর্ব সারা পাচ্ছি। জয়
আমাদের সুনিশ্চিত। বিএনপির হারানো আসনটি এবার পুনঃ উদ্ধার হবে ইনসাল্লাহ।
জামাতের
প্রার্থী ব্যারিষ্টার মাহবুবুব আলম বলেন,প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে তিনি অনেক
খুশি। মার্কা পেলাম। আমার প্রার্থীতা বাতিল করায় আমার প্রতি মানুষের
আগ্রহ আরো অনেক বেড়েছে। সবাই একটা পরিবর্ত্তন চায়। তিনি মনে করেন সবার
সাথে সবার প্রতিযোগিতা হবে।
জেলা
জামাতের সুরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা আমির মো. আব্দুল জলিল সরকার বলেন ভোটের
মাঠের অবস্থা যে ভাবে আছে তাতে আমরা ১০০ ভাগ আশাবাদী। তবে তার অভিযোগ
প্রশাসন ঠিক ভাবে কাজ করছে না। মাঠ সমতল নেই, আচরন বিধি লংঘন হচ্ছে কোন
ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সে কারনে আমরা শংকিত। সঠিক ভাবে ভোট হলে আমরা জিতব।
জাপা
প্রার্থী আব্দুস সোবাহান বলেন,এ আসনটি জাতীয় পাটির দুর্গ। তবে ভোটাররা
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আতংকে আছে। গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অবাধ কাজ
করা,চলাফেরা,ও প্রচার প্রচরনায় বাধা,প্রদান। লেভেল প্লেনিং ফিন্ড ও সকলের
জন্য সমান সুযোগ নেই। হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদশন করা হচ্ছে। আওয়ামী
লীগের সমর্থক ভোটারদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দিলে উৎসব মুখর ভোট হবে এবং
আমি আশা করি বিপুল ভোটে এ আসনে জয়ী হব।
বিএনপি
এবার মনোনয়ন দিয়েছে,সাবেক মন্ত্রি একেএম মাঈদুল ইসলামের ছোট ভাই,জেলা
বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য তাসভীর-উল ইসলাম। তিনি
বলেন, এবার বিএনপির পক্ষে গন জোয়ার উঠেছে সুষ্ট নির্বাচন হলে জয় আমাদের
হবে বলে আমি আশাবাদী।