ছবির ক্যাপশন:
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মঙ্গলবার(৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদান রাখা চার বিশিষ্ট নারীর হাতে পদক তুলে দেন অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন—নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস এবং নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।
নারীশিক্ষা ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে মন্ত্রণালয়। এর আগে দলীয়ভাবে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। এ বছরই সাফ জয়ী বাংলাদেশ দলকে দেওয়া হয় একুশে পদক। তবে ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে রোকেয়া পদক পেয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত রাঙ্গামাটির ঋতুপর্ণা।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতিটি পুরস্কারই সম্মান ও গৌরবের। এই বছরই একুশে পদক পেয়েছি, যা অত্যন্ত গৌরবের ছিল। সেটা ছিল দলীয়। এবার ব্যক্তিগতভাবে রোকেয়া পদক পেয়েছি, সরকারের এই পদকটি তাই আমার কাছে বিশেষ।’
প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে রোকেয়া পদক পাওয়ার আবেগ শেয়ার করতে গিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘যেকোনও পুরস্কার বা সম্মাননা আমার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটি আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়। প্রথমবারের মতো কোনও ফুটবলার রোকেয়া পদক পেলো, তাই এটা আমার কাছে বিরাট সাফল্য মনে হচ্ছে। আমি খুব, খুব খুশি। এমন একজন ব্যক্তির নামে এমন পদক পাওয়ার পর আমার দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। এই পদকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও সমাজকে আরও কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব।’
২০২১ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছেন ঋতুপর্ণা। বাংলাদেশের জার্সিতে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। ২০২৪ সাফে নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দুইবার শিরোপা জেতার পেছনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে উঠেও ইতিহাস গড়েছে নারী ফুটবল দল; আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে দলটি।
তবে ঋতুপর্ণার পথটা সহজ ছিল না। তার মা ভূজোপতি চাকমা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। ২০১৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। ২০২২ সালের জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ছোট ভাই পার্বণ চাকমা। সকল ব্যক্তিগত দুঃখ-বেদনা পেরিয়ে নিজের পথেই এগিয়ে গেছেন ঋতুপর্ণা। দেশের জন্য কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি উঠে এসেছেন আলোচনায়। আজ সেই অগ্রযাত্রারই স্বীকৃতি হিসেবে তার হাতে উঠেছে দেশের নারী অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননা।