ইব্রাহিম আলম সবুজ রাজারহাট কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সুখদেব খেওয়ার পাড়ের একটি টিনশেড
ঘরে গড়ে উঠেছে শীতের পোশাক তৈরির মিনি কারখানা ‘ফিনিক্স ফ্যাশন। ঢাকা শহরের
কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরি হারানো দক্ষ যুবকদের
কর্মসংস্থান তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেন শিক্ষক মনিবুল হক বসুনিয়া।
উদ্যোক্তা
মনিবুল হক জানান, দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় এলাকার তরুণরা মোবাইল গেমে সময়
নষ্ট করছিল। একদিন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন-চাকরি
হারিয়ে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তবে সরঞ্জাম পেলে গ্রামের মধ্যেই কাজ করতে
আগ্রহী। সেই কথোপকথন থেকেই তাঁর উদ্যোগের সূচনা।
তিনি
বলেন, ঢাকার ভালো ফেব্রিকস সংগ্রহ করছি যাতে মান বজায় থাকে। নিম্ন আয়ের
মানুষের কথা ভেবে স্বল্প মুনাফায় পোশাক বিক্রি করছি। লক্ষ্য-দক্ষ শ্রমিকদের
কাজে ফিরিয়ে আনা এবং সাশ্রয়ী দামে শীতের পোশাক নিশ্চিত করা। আমাদের
মূলমন্ত্র-বেশি বিক্রি,কম মুনাফা।
শিক্ষকতার
জীবনে নীতিবিষয়ক লেখালেখির কারণে একসময় চাকরি হোল্ড হয়ে যায়-এ অভিজ্ঞতা
তাঁর জীবনে নতুন পথের দরজা খুলে দেয়। পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবেই কারখানার
নামকরণ করেন,ফিনিক্স ফ্যাশন।
কারখানায়
বর্তমানে ট্রাউজার, জার্সি, টি-শার্ট, ভারী ও মাঝারি ফেব্রিক্সের নানা
ধরনের শীতের পোশাক, শিশুদের স্কুল সোয়েটার ইউনিফর্ম (২৮০ GSM)সহ বিভিন্ন
পণ্য তৈরি হচ্ছে। দেশব্যাপী ডেলিভারির সক্ষমতাও তাদের রয়েছে। গুণগত মান
বজায় রাখা-এটাই উদ্যোক্তার প্রধান অঙ্গীকার।
কাজ
করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়-চাকরি হারানোর দুশ্চিন্তায় তারা
দিকহারা হয়ে পড়েছিল। এখানে কাজ পাওয়ায় জীবনে আবার স্বস্তি ও স্থিরতা ফিরে
এসেছে।
মোস্তাকিম হোসেন,
যিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন, বলেন,কারখানা বন্ধ হওয়ার
পর কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। এখানে কাজ পেয়ে আবার নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে
পারছি। পরিবারের পাশে থেকে কাজ করার সুখটা আলাদা।
বুনন
ও সেলাই কর্মী পপি বেগম জানান,নারী হয়ে বাইরে গিয়ে কাজ করা সহজ নয়। কিন্তু
এখানে নিরাপদ পরিবেশে নিয়মিত কাজ করতে পারছি। নিজের আয়ে সংসারে সহায়তা
করতে পারছি-এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
ফেব্রিক্স
কাটিং মিস্ত্রি রাকিব হোসেন বলেন,আমরা চেয়েছিলাম গ্রামে থেকেই কিছু করতে।
স্যার আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন, যন্ত্রপাতি এনেছেন, সব ব্যবস্থা করেছেন। এখন
নিয়মিত কাজ করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসর হবে-এই আশা নিয়েই এগোচ্ছি।
কোয়ালিটি
ইন্সপেক্টর রাসেল বলেন,ঢাকায় কাজ শুরুর আগে যেমন মান যাচাই করা হতো,
এখানেও ঠিক একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি পোশাক কাটিং, সেলাই ও
ফিনিশিং-সব ধাপেই আমরা মান নিশ্চিত করছি। নতুন জায়গা হলেও এখানে কাজের
পরিবেশ খুব ভালো। নিয়মিত কাজ পাওয়ায় পরিবারের দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়েছে।
উদ্যোক্তা
মনিবুল হক জানান, চারটি মেশিনে আপাতত ১২ জন কর্মী কাজ করছেন। সহজ শর্তে ঋণ
পেলে এ উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন
তিনি।
শীতের মৌসুমে পোশাক বিতরণকারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও অর্ডার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মঞ্জরুল ইসলাম বলেন,বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং কম
দামে শীতের পোশাক সরবরাহ-উভয় দিক থেকেই ফিনিক্স ফ্যাশন, এলাকায় নতুন উন্নয়ন
সম্ভাবনা তৈরি করেছে।