পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড পরিদর্শনে গিয়ে রেললাইন নির্মাণে ব্লাস্ট পাথর ও নদী শাসন কাজে খনির বোল্ডার পাথর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১টায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত মধ্যপাড়া পাথর খনি পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এ নির্দেশ দেন। খনির ভূ-গর্ভ এবং উপরিভাগ পরিদর্শন করেন। জ¦ালানী উপদেষ্টা মধ্যপাড়া খনিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৪০/৬০ মিলি (ব্লাস্ট) পাথর ব্যবহার বাড়াতে উপস্থিত রেলের ডিজিকে নির্দেশ দেন। নদী শাসন কাজে খনির বোল্ডার পাথর ব্যবহারে পানিসম্পদ উপদেষ্টার সাথে ফোনে কথা বলেন। পরে, তিনি রেলওয়ের ডিজিকে মধ্যপাড়া পাথরখনি-ভবানীপুর ১৪ কিলোমিটার রেলপথ দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন। উপদেষ্টা খনিতে বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।
এসময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার জ্বালানী ও খনিজ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো: রেজানুর রহমান, এমজিএমসিএল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রফিকুল আলম, পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস এম মাহবুব আলম, এমজিএমসিএল পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক (ভূতত্ত্ব) আলী আকবর, রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদ্দাম হোসেন ও পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ ফারুক হোসেন। এব্যাপারে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, উপদেষ্টা রেলপথ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পাথর ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। সেই সাথে মধ্যপাড়া-ভবানীপুর রেলপথ পরিদর্শন করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলপথ মেরামতের জন্য রেলের ডিজিকে বলেছেন।
উল্লেখ্য, তৎকালিন বিএনপির চেয়ারপাসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালের ২০ অক্টোবর পেট্রোবাংলার ভূ-গর্ভস্থ খনি মধ্যপাড়া কঠিন শিলার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্বোধন করেন। খনিটি ২০০৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে পাথর উৎপাদনে যায়। দৈনিক পাথর উত্তোলন হয় ৭শ’ থেকে ৮শ’ মেট্রিক টন। ফলে খনিটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর সরকারের সাথে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় ও জার্মানীয়া কর্পোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাথে। জিটিসি ইউক্রেন, রাশিয়ান ও বেলারুশের সুদক্ষ মাইনিং বিষেশজ্ঞ দল ও ৭ শতাধিক দেশীয় শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে পাথর খনি থেকে দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে। জিটিসি’র হাত ধরে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মধ্যপাড়া পাথর খনিটি লাভের মুখ দেখতে শুরু করে।