
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মাসআলা : প্রত্যেক সুস্থ মস্তিস্কের বালেগ মুসলিমের ওপর রমজানের রোজা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, অর্থ- সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে (সুরা বাকারা : ১৮৫)।
নিয়ত
মাসআলা : রোজার নিয়ত করা ফরজ। নিয়ত অর্থ সংকল্প। যেমন মনে মনে এ সংকল্প করবে- আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকালের রোজা রাখছি। মুখে বলা জরুরি নয়। হাদিস শরিফে আছে- সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (সহিহ বুখারি ১/২)।
সেহরি ও ইফতার
মাসআলা : সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হবে। নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন- তোমরা সেহরি খাও। কেননা সেহরিতে বরকত
রয়েছে (সহিহ মুসলিম ১/৩৫০)।
মাসআলা : দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা মুস্তাহাব। হাদিস শরিফে আছে- যতদিন মানুষ দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে (সহিহ বুখারি ১/২৬৩)।
মাসআলা : খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত- নবীজি (স.) বলেন, যার কাছে খেজুর আছে সে খেজুর দ্বারা ইফতার করবে। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। কেননা পানি হলো পবিত্র (সুনানে তিরমিযি, হাদিস : ৬৯৪)।
ইফতারের সময় দোয়া : ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া-ইস্তিগফার করতে থাকবে।
রোজা ভঙ্গের কারণ
মাসআলা : রমজানে রোজা রেখে দিনে স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হবে।
মাসআলা : রোজা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে।
মাসআলা : বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে (রদ্দুল মুহতার ৩/৩৮৫)
যে কারণে রোজা ভাঙে না
মাসআলা : কোনো রোজাদার রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে তার রোজা নষ্ট হবে না। তবে রোজা স্মরণ হওয়া মাত্রই পানাহার ছেড়ে দিতে হবে। হাদিস শরিফে এসেছে- যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন (সহিহ মুসলিম ১/২০২)।
মাসআলা : চোখে ওষুধ-সুরমা ইত্যাদি লাগালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। আনাস (রা.) রোজা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন (সুনানে আবু দাউদ ১/৩২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩)।
মাসআলা : রাতে স্ত্রীসহবাস করলে বা স্বপ্নদোষ হলে সুবহে সাদিকের আগে গোসল করতে না পারলেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কোনো ওজর ছাড়া, বিশেষত রোজার হালতে দীর্ঘ সময় অপবিত্র থাকা অনুচিত।
মাসআলা : স্ত্রীকে চুমু খাওয়া জায়েজ। তবে কামভাবের সঙ্গে চুমু খাওয়া যাবে না। আর তরুণদের যেহেতু এ আশঙ্কা থাকে তাই তাদের বেঁচে থাকা উচিত।
মাসআলা : অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (মুখ ভরে হলেও) রোজা ভাঙবে না। তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজে ভেতরে চলে গেলেও রোজা ভাঙবে না।
মাসআলা : শরীর বা মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে না।
মাসআলা : স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে না।