
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: গুগল পিক্সেল সিরিজের স্মার্টফোনগুলো সব সময়ই তাদের ক্যামেরা ম্যাজিক এবং ক্লিন অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতার জন্য জনপ্রিয়। এর সর্বশেষ সংস্করণ গুগল পিক্সেল ১০। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাজারে আসার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতেই বাজারে আসছে ফোনটি। ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে ফোনটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন- আজহারুল ইসলাম অভি
যা থাকতে পারে গুগল পিক্সেল ১০-এ :
১. নতুন প্রসেসর টেনসর জি৫ (Tensor G5) : পিক্সেল ১০-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর প্রসেসর। পিক্সেল ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত গুগল স্যামসাংয়ের সহায়তায় তাদের চিপ তৈরি করলেও Tensor G5 চিপটি তৈরি করছে সরাসরি গুগল নিজে এবং এর উৎপাদনে থাকছে বিখ্যাত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান TSMC। এটি হবে ৩ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের চিপ, যা ফোনের পারফরম্যান্স অনেক বাড়িয়ে দেবে এবং ব্যাটারি খরচ কমাবে। TSMC-এর প্রযুক্তির কারণে ফোনটি আগের পিক্সেলগুলোর তুলনায় অনেক কম গরম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২. এআই (AI) ফিচারের জয়জয়কার : গুগল বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। পিক্সেল ১০-এ ‘Gemini Nano’-এর আরও শক্তিশালী সংস্করণ দেখা যাবে।
AI ভিডিও এডিটিং : ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন বা অবজেক্ট রিমুভাল আরও নিখুঁত হবে।
অ্যাডভান্সড কল অ্যাসিস্ট : আপনার কল রিসিভ করা থেকে শুরু করে কথা বলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার ক্ষমতা আরও বাড়বে।
৩. ক্যামেরা এবং সেন্সর : পিক্সেল মানেই সেরা ফটোগ্রাফি। পিক্সেল ১০-এ নতুন কোনো বড় সেন্সর যোগ না হলেও, তাদের কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি অর্থাৎ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবি প্রসেসিং করার ক্ষমতা আরও উন্নত হবে।
বিশেষ করে অল্প আলোয় ভিডিও গ্রাফি (Night Sight Video) এবং সিনেমাটিক ব্লার মোডে বড় আপডেট আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪. ডিসপ্লে এবং ডিজাইন : গুগল তাদের ডিজাইনে খুব একটা আমূল পরিবর্তন না আনলেও পিক্সেল ১০-এ আরও পাতলা বেজেল এবং উন্নত LTPO OLED প্যানেল ব্যবহার করা হবে। এতে রিফ্রেশ রেট 1Hz থেকে 120Hz পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করবে, যা ব্যাটারি সাশ্রয় করবে।
৫. ব্যাটারি এবং চার্জিং : টেনসর জি৫ প্রসেসরের দক্ষতার কারণে ব্যাটারি লাইফে বড় পরিবর্তন আসবে। গুগল পিক্সেল ১০-এ দ্রুততর চার্জিং স্পিড দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা গত কয়েক বছর ধরে ভক্তদের বড় দাবি ছিল।
একনজরে সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন
প্রসেসর : গুগল টেনসর জি৫ (TSMC ২য় প্রজন্ম ৩এনএম)
ডিসপ্লে : ৬.৩ ইঞ্চি (ভ্যানিলা) ও ৬.৭ ইঞ্চি (প্রো)
র্যাম : ১২ জিবি থেকে ১৬ জিবি পর্যন্ত
সফটওয়্যার : অ্যান্ড্রয়েড ১৬ (প্রথম ফোন হিসেবে)
কানেক্টিভিটি : স্যাটেলাইট এসওএস (Satellite SOS) সাপোর্ট
টেনসর জি৫-এর বিশেষত্বের মূল কারণগুলো তুলে ধরা হলো
স্যামসাং থেকে টিএসএমসি (TSMC)-তে স্থানান্তর : পিক্সেল ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত সব ফোনের টেনসর চিপগুলো ছিল স্যামসাংয়ের এক্সিনস (Exynos চিপের একটি মডিফাইড ভার্সন। কিন্তু টেনসর জি৫-এ গুগল TSMC-এর ৩ ন্যানোমিটার (3nm) প্রসেস ব্যবহার করছে।
যে কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ : আইফোন এবং এনভিডিয়া (Nvidia) তাদের চিপের জন্য TSMC ব্যবহার করে। এদের প্রযুক্তি স্যামসাংয়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং দক্ষ। এর ফলে ফোন কম গরম হবে এবং ব্যাটারি লাইফ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে।
কাস্টম ডিজাইন : আগের চিপগুলোতে গুগলকে স্যামসাংয়ের ডিজাইন কিছুটা মেনে চলতে হতো। কিন্তু টেনসর জি৫ চিপটি গুগল একদম শুরু থেকে (Scratch) নিজেরা ডিজাইন করেছে। এটি অনেকটা অ্যাপলের ‘A’ সিরিজের চিপের মতো। গুগল এখন তাদের সফটওয়্যার (অহফৎড়রফ) এবং এআই (AI) এর জন্য ঠিক যেমন হার্ডওয়্যার প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রসেসর তৈরি করতে পারছে।
এআই পারফরম্যান্স : টেনসর চিপের মূল শক্তি হলো এর TPU (Tensor Processing Unit), যা এআই কাজগুলো পরিচালনা করে। জি৫-এ গুগল তাদের নতুন এআই আর্কিটেকচার যুক্ত করছে। এর ফলে ক্লাউড বা ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই ফোনের ভেতরে অনেক জটিল এআই কাজ (যেমন- ভিডিও থেকে অবজেক্ট সরানো বা রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন) চোখের পলকে করা সম্ভব হবে।
গ্রাফিক্স এবং গেমিং : পিক্সেল ব্যবহারকারীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে ফোনে হেভি গেমিং করা যায় না। টেনসর জি৫-এ গুগল সম্ভবত Imagination Technologies-এর নতুন ডিএক্সটি (DXT) জিপিইউ ব্যবহার করবে। এটি গেমিংয়ের সময় জধু ঞৎধপরহম সাপোর্ট করবে, যা গ্রাফিক্সকে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করে তুলবে।