👁 333 Views

লালমনিরহাটে বিএডিসি সেচ সম্প্রসারণে সাফল্য অর্জন করেছে

মোঃ লাভলু শেখ লালমনিরহাট।

অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে।
লালমনিরহাটে বিএডিসি সেচ সম্প্রসারণে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
বিএডিসি লালমনিরহাটের অফিস সৃএে জানা গেছে, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে সেচ সম্প্রসারণে লালমনিরহাটে বিএডিসি সেচ বিভাগের PARTNER প্রোগ্রামের সফল উদ্যোগ বিএডিসি সেচ বিভাগ কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সেচের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে আধুনিক সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। খাল পুনঃখনন, ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, সোলার ও লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) স্থাপন, সেচ স্কিম বাস্তবায়ন, পাম্পহাউজ ও বিভিন্ন হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণের মাধ্যমে কৃষকের জন্য নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সেচসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস, স্মার্ট সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience (PARTNER), BADC Part-এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নে ২টি ২-কিউসেক লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) সেচ স্কিম স্থাপন করা হয়েছে। নদীর পানিকে সেচের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে স্থাপিত প্রতিটি স্কিমে ১৫ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা সহজলভ্য ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেচের পানি পরিবহন সক্ষমতা ও কভারেজ বৃদ্ধি এবং পানির অপচয় রোধের লক্ষ্যে প্রতিটি স্কিমে ১,৫০০ মিটার করে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সেচের পানি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কৃষিজমিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং সেচ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। স্কিম ২টির মাধ্যমে প্রায় ১৩০ জন কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। সেচের পানির সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কিমের আওতাভুক্ত কৃষকদের AWD (Alternate Wetting and Drying) প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানোর ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়৷ ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি সাশ্রয় সম্ভব হয় এবং সেচ ব্যয় কমে আসে। একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে পানিসম্পদের আরও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সেচের পানির অপচয় হ্রাস এবং সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। নদীর পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানিসম্পদের সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পার্টনার কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ কার্যক্রম পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে স্থানীয় কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার, AWD (Alternate Wetting and Drying) প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সেচ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষকবান্ধব সেচ প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে বিএডিসি (সেচ) লালমনিরহাট জেলার কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *