👁 530 Views

মিরপুরে ভালো উইকেটের প্রত্যাশা শান্তর

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজের স্মৃতি বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত সেই অতীতে আটকে থাকতে চান না। মিরপুরে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশ অধিনায়কের বার্তা পরিষ্কার, রেকর্ড নয়, প্রতিদিন ভালো ক্রিকেট খেলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, আগের সাফল্য আত্মবিশ্বাস দিলেও নতুন সিরিজে নতুন করে শুরু করতে হবে। তার কথায়, ‘অবশ্যই ওই সিরিজটা আমাদের একটা কনফিডেন্স দেবে। কিন্তু এই সিরিজে আবারও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট হলে হয়তো রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে। রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি আমরা চিন্তা করছি না।’

 

মিরপুরের উইকেট নিয়েও কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরেই শেরেবাংলার উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হিসেবে পরিচিত। শান্ত মানছেন, এখানে ব্যাটিং করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরে ভালো উইকেট দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে। সে কারণেই তিনি আশা করছেন, ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে এখানে আরও ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারবেন।

 

শান্ত বলেন, ‘মিরপুরে সবসময় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাটিং করতে হয়েছে। যদি ভালো উইকেটে খেলতাম, আগে যারা খেলেছে তাদের এভারেজ বা স্ট্রাইক রেট হয়তো আরও ভালো থাকত। কিন্তু এটা কারও কন্ট্রোলে নেই। যেরকম কন্ডিশন থাকুক, ওই কন্ডিশন অনুযায়ী কত ভালো ব্যাটিং করা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

 

পাকিস্তানের পেস আক্রমণ বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। শান্ত সেটিও জানেন। সুইং ও সিমের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই ওপেনাররা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, প্রস্তুতির দিক থেকে ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট কাজ করেছেন।

 

বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাষায়, ‘পাকিস্তানের পেসারদের বিপক্ষে টপ অর্ডারের সবসময় চ্যালেঞ্জ থাকে, কারণ বল একটু সুইং করে, সিম করে। এই চ্যালেঞ্জটা থাকবে। যারা ওপেনার, তারা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, তারা তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারবে।’

 

প্রথম ইনিংস নিয়ে শান্তর ভাবনা আরও স্পষ্ট। ভালো উইকেটে সুযোগ থাকলে ৪০০ বা তার বেশি রান করতে চায় বাংলাদেশ। তবে সেই রান কত ওভারে এলো, সেটি তার কাছে বড় বিষয় নয়। ব্যাটসম্যানরা নিজেদের স্বাভাবিক ধরনে খেলুক, সেটিই চান অধিনায়ক।

 

‘প্রথম ইনিংস খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উইকেটে কন্ডিশন যদি ডিমান্ড করে, ৪০০ বা ৪০০ প্লাস করতে পারলে দলের জন্য খুব ভালো। কিন্তু যার খেলার ধরন যে রকম, সে যেন সেভাবেই খেলে। রান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ৮০ ওভারে ৪০০ করলে সমস্যা নেই, ১২০ ওভার লাগলেও সমস্যা নেই,’ বলেছেন শান্ত।

 

ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলার কথাও ড্রেসিংরুমে নিয়মিত আলোচনায় আসে বলে জানিয়েছেন শান্ত। তার মতে, ব্যক্তিগত ১০০, ১৫০ বা ২০০ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত দলকে বড় জায়গায় নিয়ে যায়।

 

শান্ত বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে বা প্রস্তুতির সময় আমরা সবসময় কথা বলি, কীভাবে ১০০, ১৫০, ২০০ রানের বড় ইনিংস করা যায়। ব্যক্তিগত ওই রানটাই আসলে দলকে সাহায্য করে। প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের লক্ষ্য থাকে দলের জন্য কীভাবে বড় রান করা যায়।’

 

সিরিজ জয়ের স্বপ্ন থাকলেও শান্ত এখনই ফল নিয়ে ভাবতে চান না। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ১০ দিনের ক্রিকেট। পাঁচ দিনের দুটি ম্যাচে প্রতিদিন পাকিস্তানের চেয়ে ভালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলাই তার মূল লক্ষ্য।

 

‘হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই করি না। ১০ দিনের খেলা, পাঁচ দিন পাঁচ দিন করে। এই ১০ দিন কীভাবে আমরা ওদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটাই বেশি ভাবি। প্রক্রিয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেছেন শান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *