👁 530 Views

একটি লিচুর দাম ১১ টাকা

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এবার লিচুর বাজারে রেকর্ড দাম দেখা গেছে। জনপ্রিয় চায়না-৩ জাতের লিচু খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ১০০টি লিচু কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। ফলন কমে যাওয়া ও সরবরাহ সংকটের কারণে মৌসুমি এই ফলের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন বাগান ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে লিচুর দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে বড় আকার, আকর্ষণীয় রং ও স্বাদের জন্য পরিচিত চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ সীমিত। এতে বাগান পর্যায় থেকেই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে লিচু।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।

উচ্চমূল্যের কারণে হতাশ ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের অতিথি আপ্যায়ন কিংবা শিশুদের জন্য সহজলভ্য ফল ছিল লিচু। এখন সেই লিচু কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার গৃহিণী খানিজ বলেন, একসময় অতিথি আপ্যায়নে লিচু রাখা স্বাভাবিক ছিল। এখন ১০০ লিচুর দাম এক হাজার টাকা। মধ্যবিত্তের জন্য এটা বড় চাপ।

সীমিত আয়ের অভিভাবক আতোয়ার হোসেন বলেন, বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে ফিরে যেতে হয়। নিত্যপণ্যের দাম সামলে মৌসুমি ফল কেনা এখন বিলাসিতা।

ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মৌসুমে অন্তত দুয়েকশ লিচু কিনে পরিবার নিয়ে খাওয়া যেত। এখন ১০টা লিচু কিনতেই প্রায় ১০০ টাকা লাগে। এভাবে চললে লিচু শুধু ধনীদের ফল হয়েই থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিজীবী বলেন, ফলন কমেছে, এটা ঠিক। কিন্তু প্রতি পিস ১০-১১ টাকা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি। বাজারে এখন লিচু দেখেই আফসোস করতে হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৬৭ হেক্টর জমিতে ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে ১২৭টি বাগানে লিচুর চাষ হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও চায়না-৩ ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর উৎপাদন ভালো হওয়ার আশা ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামগ্রিক ফলন কিছুটা কমেছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, এ বছর উপজেলায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। চায়না-৩ জাতের লিচুর সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে। ফলন কিছুটা কম হলেও বড় ও মানসম্মত লিচুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *