
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : কওমি ও জাতীয় শিক্ষাক্রমের সমন্বয়ে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত শিক্ষাবোর্ড ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী দেশের ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সংবর্ধনা দিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, হাফেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু ইমামতি বা খতিবের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে তারা রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে সক্ষম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আলেমরা দায়িত্ব পালন করলে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও ন্যায়ভিত্তিক, সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখীভাবে পরিচালিত হতে পারে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা তাদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আলেমদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের প্রধান মাওলানা মুফতি মুসা খান বলেন, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইতমিনান বোর্ডের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠদান করা হয় এবং সমন্বিত সিলেবাস প্রণয়ন করেছে ইতমিনান বোর্ড।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা, প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুফতি মুসা খান বলেন, কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণের আগেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান, যাতে ভুল তথ্যের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি না হয়।
তিনি আরও বলেন, নুরানি মাদ্রাসা, মক্তব, ইসলামিক স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসাগুলো শুধু শিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই বেফাকসহ কেন্দ্রীয় বোর্ডের অধীন এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরুৎসাহিত না করে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী এবং ক্বারি আহমদ বিন ইউসুফ আল-আজহারীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।