👁 138 Views

উলিপুরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, লুট-পুড়ে গেছে প্রায় ৫২ লাখ টাকার মালামাল

 
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে জমিজমা ও বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় এজাহার দিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান ওরফে সেনা (৪৮)। এজাহারে আগুনে পুড়ে যাওয়া ও লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৫২ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
 
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কয়েকজনের পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে হাবিবুর রহমান তাঁর আগের স্ত্রীর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ৪০ শতাংশ জমি এবং বাড়ি নির্মাণের খরচসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে অভিযুক্তরা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মীমাংসার উদ্যোগ থেকে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
 
এজাহারে আরও বলা হয়, এর পরদিন ১১ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে হাবিবুর রহমানের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় অভিযুক্তদের একজনের নির্দেশে বাড়ির চারপাশে দাহ্য পদার্থ (অকটেন) ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 
হাবিবুর রহমানের দাবি, ঘটনার সময় তিনি, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা উলিপুর উপজেলা সদরে থাকা অন্য একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
 
অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি সামগ্রী পুড়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফ্রিজ, সৌদিয়ান চারমুখী চুলা, মাইক্রোওভেন, আইপিএস, সেগুন কাঠের খাট, সোফাসেট, কসমেটিকসের বিভিন্ন সামগ্রী, ড্রেসিং টেবিল, ওয়াল শোকেস, আলমারি, ডাইনিং টেবিল, ওয়াশিং মেশিন, লাগেজে থাকা পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
 
এ ছাড়া বাড়ি থেকে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি টনের একটি এসি, তাঁর স্ত্রীর প্রায় সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, ৫০ ইঞ্চি একটি টেলিভিশন ও একটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ আরও কিছু মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ও নিখোঁজ মালামালের মূল্য প্রায় ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৫২ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
 
অভিযোগে আরও বলা হয়, আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে হাবিবুর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল দেখতে পান।
 
এ ঘটনায় মোছা. মৌলুদা আক্তার রোস্তমা, মো. ইশরাক আল সিয়ামসহ পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
অভিযোগকারী হাবিবুর রহমান বলেন, পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মীমাংসার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পরই তাঁর বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করেন।
 
অভিযুক্ত মোছা. মৌলুদা আক্তার রোস্তমা ও মো. ইশরাক আল সিয়ামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *