👁 237 Views

আজ শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট)। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।

এর পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনি কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম- কালিবাড়ী, ডাকঘর- ঠাকরগাঁও ৫১০০, ঠাকরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।

এর আগে দুপুর ২টায় সংসদ অধিবেশন কক্ষে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোটদান শুরু হয়।

প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। কক্ষের মাঝে বসানো চেয়ার-টেবিলে তারা ভোট দেন। তাপর তারা বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তাদের পর বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। তারপর ভোট দেন মির্জা ফখরুল। এরপর আবদুল আউয়াল মিন্টু ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ভোট দেন। পর্যায়ক্রমে অন্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। উল্লেখ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রাবস্থায় ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন এবং সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডার) সদস্য হিসেবে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-০১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ করেননি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *