👁 518 Views

নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা” শীর্ষক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি;
কণ্ঠস্বর থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় শাসনের জন্য নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা” শীর্ষক পরামর্শমূলক কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার ​(১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান,’নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুয়েব হোসেন চৌধুরী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর প্রমুখ।

​কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক, সিএসও (CSO), সিবিও (CBO), ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।
​আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও সেবা থাকলেও নারীদের একটি বড় অংশ, চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র কৃষক ও যুবসমাজসহ প্রান্তিক নাগরিকরা প্রায়শই এসব সুবিধার সুবিধা নিতে পারেন না। তথ্যের অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে না পারা সহ বিভিন্ন কারণে এই দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ​অংশীজনেরা জোর দিয়ে বলেন, “সেবার সেবায় প্রাপ্যতা (availability)” এবং “সেবায় প্রবেশাধিকার (access)” এক বিষয় নয়। তাই নাগরিকদের উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানো এবং সরকারি পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে জানানো—দুই-ই নিশ্চিত করা জরুরি।

ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, “মৌলভীবাজারে মানুষের কথা বলার জন্য শুধু আরেকটি ব্যবস্থা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, সাড়া পাবে এবং ফলাফল সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।”
​কর্মশালায় স্থানীয় সিএসও এবং সিবিও-এর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা জানান, এসব সংগঠন নাগরিকের সমস্যা ও প্রয়োজন শুনে তথ্য নথিভুক্ত করা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানো এবং সরকারি সাড়ার অগ্রগতি অনুসরণে একটি সেতুর মতো কাজ করতে পারে।
​’নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, “প্রান্তিক মানুষের অনেক সমস্যা ও প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে উঠে আসছে। এখন প্রয়োজন এসব বিষয়কে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিক্রিয়া জনগণকে জানানো
​কর্মশালায় স্পষ্ট করা হয়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কোনো কমিটি বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে আরও সহজপ্রাপ্য, সাড়াদানকারী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।
​উল্লেখ্য, ‘নাগরিকতা – সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজারে ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পটি সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ডিনেট ও তার সহযোগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *