
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ন্যাশনালে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। শাওয়াল মাসের প্রথমদিন হতে পারে ২০ মার্চ।
ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেন, আগামী বুধবার ২৯তম রমজানে, আরব দেশগুলোর আকাশে কোনো অর্ধচন্দ্র থাকবে না।
অর্থাৎ আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতারসহ ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়া শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে। এ দিনই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ১৮ মার্চ রমজানের ২৯তম দিন। এ দিন স্বাভাবিতভাবে নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না। কারণ পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে। ফলে ওই সন্ধ্যায়ও রমজান চলবে এবং ১৯ মার্চ রমজানের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে।
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চাঁদের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সংযোগ শারজাহের আকাশে ১৯ মার্চ ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে ঘটবে। সেদিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ৬ মিনিট। সূর্যের সঙ্গে এর কৌণিক দূরত্ব থাকবে প্রায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং পশ্চিম দিগন্তের ওপর এর উচ্চতা হবে প্রায় ৬ ডিগ্রি। সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তে অবস্থান করবে।
অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, এসব অবস্থার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাঁদ দেখার পরিস্থিতিকে কঠিন বা অনুকূল নয়। এ সময়ে টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা অত্যন্ত কঠিন হবে এবং খালি চোখে দেখা প্রায় অসম্ভব।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, উন্নত প্রযুক্তি যেমন ইমেজ স্ট্যাকিং ব্যবহার করে হয়তো চাঁদের ছবি ধারণ করা যেতে পারে। এছাড়া পশ্চিমে অবস্থিত কিছু আরব ও মুসলিম দেশে ভৌগোলিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক কারণে চাঁদ দেখা সম্ভব হতে পারে।
এই হিসাবের ভিত্তিতে একাডেমি জানিয়েছে, ২০ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে শাওয়াল মাসের শুরু এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।