👁 151 Views

পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গলের ইউএনও

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে বইপাড়া উৎসব ২০২৬।

এ উৎসবে উপজেলার মাধ্যমিক ও তদুর্ধ ৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কাব্য পড়তে উৎসাহিত করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বইপাড়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।

রোববার (২ জুলাই) উপজেলার ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল ও ভূনবীর দশরথ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন
ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান।
এসময় তিনি পাঠ্যবইয়ের সাথে অন্যান্য বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল বই পড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল এসব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী ৫টি স্কুলে এ উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, উদ্দীপনা এবং উৎসাহ দেখা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পাঠ্যবই এর পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে উৎসাহিত করছি।
আমরা আশা রাখি আমাদের আগামী প্রজন্ম বই পড়ার মাধ্যমে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজন শ্রীমঙ্গলের সকল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত বিগত ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রথম পর্ব মুকুল এ শ্রেণি ওয়ারী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ১৪ টি বই শ্রীমঙ্গলের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী একযোগে পড়ছেন। আগামী ১৭ আগস্ট এই বইগুলোর উপরে শ্রেণিওয়ারী প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদাভাবে মুকুল পর্বের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও তদুর্ধ ৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন।
মুকুল পর্বে পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জনকে বেছে নেয়া হবে।
তারা দ্বিতীয় পর্ব ফুলের জন্য নতুন বই পড়ে আবার স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
সেখান থেকে প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর প্রতি শ্রেণির সেরা ৩ জন উপজেলা পর্যায়ের চুড়ান্ত ধাপের জন্য নির্বাচিত হবে।
চুড়ান্ত পর্বে আবার নতুন বই পড়ে পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেণিওয়ারি সেরা ১০ জনকে বেছে নেয়া হবে।
চুড়ান্ত ধাপে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী ন্যুনতম ৩ টি বই আলাদা আলাদা ধাপে পড়বে।
এছাড়াও এবার যুক্ত হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ। যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর বাইরের যে কোন বয়সী মানুষ রেজিষ্ট্রেশন করে বইপড়া উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে এই উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে আছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে আছে উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *