👁 427 Views

কলাপাড়ায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখা থেকে কোটি টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার  উধাও, গ্রাহকদের ব্যাংক ঘেরাও।।

 মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া( পটুয়াখালী)।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট থেকে গ্রাফদের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। এই ঘটনায় আজ সকাল থেকে সর্বস্ব পুঁজি হারিয়ে  কয়েকশো গ্রাহক ব্যাংক ঘেরাও করে রেখেছে। ব্যাংকের স্থানীয় এজেন্ট বলেন, তারা গ্রাহকদের তালিকা তৈরি করছেন। তাদের মূলধন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে  ব্যাংকের ক্যাশিয়ার কে খুঁজে পাচ্ছেনা ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ থাকায় সন্দেহ তীব্র হয়। গ্রাহকরা ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে দেখে এসে দেখে তাদের একাউন্টে টাকা নাই। মুহুর্তের মধ্যেই  ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার গ্রাহকদের কাছে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাংকের টাকা উত্তোলন করতে এসে গ্রাহকরা শূন্য হাতে ফিরে  যাওয়ার খবর শুনে  রবিবার গ্রাহকদের ভীড় বাড়ে। সোমবার শতশত গ্রাহক তাদের ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকের এজেন্ট এর কাছে শরণাপন্ন হলেও তিনি তাদের কোন  ফয়সালা দিতে পারেননি।  শুধু গ্রাহকদের টাকা নয়, ব্যাংকের মাদার একাউন্ট শূন্য করেও টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

গ্রাহক মোসাঃ তানজিয়া বলেন, তার স্বামীর বিদেশ থেকে পাঠানো তিন লাখ ২৮ হাজার এবং তার জমা রাখা এক লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট চার লাখ ৩৮ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ছিলো। এখন আমার অ্যাকাউন্টে আছে ১৫৫৩ টাকা। বাকি টাকা উধাও।

লস্করপুর গ্রামের রাহিমা বেগম বলেন, তার স্বামী মালয়েশিয়া থাকে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ফিকসড ডিপোজিট করেছেন। তাকে সব কাগজও দিয়েছে। কিন্তু এখন ব্যাংকে এসে দেখেন তার টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি। তাকে যে কাগজ দেয়া হয়েছে সব ভূয়া।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, তাদের ১ লাখ থেকে ৭ লাখ – ১০ লাখ টাকা জমা। তাদের কাছে সব ধরনের কাগজও আছে। কিন্তু তাদের অ্যাকাউন্ট শূন্য।  এসব টাকা  কেউ বিদেশ থেকে পাঠিয়েছেন। কেউ বা বিদেশে পাঠানোর জন্য ব্যাংকে জমা রেখেছেন। কেউবা চিকিৎসার জন্য জমা রেখেছেন। কিন্তু তাদের সবার অ্যাকাউন্ট এখন খালি।

ব্যাংকের এজেন্ট এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও তিনি কোন ফয়সালা দিতে পারেননি। উল্টো তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

গ্রাহকরা আরো অভিযোগ করেন, তারা ব্যাংকে একাউন্টের খোঁজ নিতে আসায়  ব্যাংকের এজেন্ট এর ছেলে সাকিব তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন।  ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন ব্যাংক এজেন্ট এর ছেলে সাকিব।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব বলেন, ঠিক কত টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার উধাও হয়েছেন যে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না। তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তার ব্যাংকের মাদার অ্যাকাউন্টও খালি। তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য ও প্রমান সংগ্রহ করছেন।

এবিষয়ে নিখোঁজ ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে তার পিতা সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রহিম বাদশা বলেন, তার ছেলেকে গত বৃহস্পতিবার থেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এভাবে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে সেটা তারা জানেন না। তবে যদি সে টাকা নিয়ে থাকে তারা চেষ্টা করবেন তা ফিরিয়ে দিতে।

গ্রাহকসহ এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন এ ঘটনার সাথে ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার রাহাত ও ব্যাংকের এজেন্টের লোকজন জড়িত।  সঠিক তদন্ত হলে কয়েক কোরি টাকা আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসবে। এজন্য তারা প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।  তবে এ বিষয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পুলিশ এ ঘটনায় মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *