👁 524 Views

চাকুরী করা হলো না নাসিমার

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরীঘাটে বাস দূর্ঘটনায় মোছাম্মত নাসিমা বেগম (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নে। বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন স্বজনেরা।
জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলায় ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নে মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩০)। স্বামী হারা নাছিমা গত ১৯ ফেব্রুয়ারী চাকুরীর উদ্দেশ্যে সাভারে ভাগিনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। এক মাসের চেষ্টার পরও চাকুরীর ব্যবস্থা না হওয়ায় ঈদ করতে ভাগনীর শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুরে যায় তারা। ঈদ শেষে ঘটনার দিন (২৫ মার্চ) বিকাল ৫ টায় বাস যোগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ফেরী ঘাট দিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা করেন নাছিমা খাতুন, ৮ মাসের অন্তঃসত্বা ভাগনী আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান এবং আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দূর্ঘটনার সময় প্রত্যেকে বাসে অবস্থান করাকালে নিঁখোজ হয় সকলে। কিছুক্ষন পর ভেসে উঠে ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচে শুধুমাত্র আব্দুল আজিজ। এর প্রায় ৬ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নানী, ভাগনী ও নাতী নিহত ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকল কার্যক্রম শেষ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে মরদেহ নিয়ে এম্বুলেন্স যোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তার আত্মীয়রা। পথিমধ্যে রাত ৯ টার দিকে কুষ্টিয়া পার হয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে ( চলন্ত গাড়ির চাকা ব্লাষ্ট হয়ে যায়) লাশবাহী গাড়িটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। তিনি জানান, রানা প্লাজা দূর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ধ্বসে পড়া বহুতল ভবনের নিচ থেকে তিন দিন পর জীবিত উদ্ধার হয়েছিলো সে। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে চাকুরীর জন্য ঢাকা যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আমাদের পরিবারকে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আঃ ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পরিদর্শন করেছি। সেই সাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।

পার্বতীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *