👁 479 Views

দুই বোন আজ অনুপ্রেরণার প্রতীক

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : জন্মের পর আলোচনায় আসে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পেট জোড়া লাগা যমজ বোন মনি-মুক্তা। প্রথমে মানুষের কুসংস্কার ও অপবাদ জুটে ছিল তাদের। কিন্তু বাবা জয় প্রকাশ পাল ও মা কৃষ্ণা রাণী পালের মানসিক শক্তি পাল্টে দেয় সেই অবস্থা। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন পায় মনি-মুক্তা। ১৮ বছরে পা দেওয়া দুই বোন আজ হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হবে কলেজে।

আজ শনিবার মনি-মুক্তার জন্মদিন। ২০০৯ সালের এ দিনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে জন্ম হয় তাদের। জন্মের পরই বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে, কারণ তাদের দুজনের পেট জোড়া লাগানো ছিল। অনেকে এটিকে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ উল্লেখ করে পরিবারকে কটু কথা বলত। এতে দমে যাননি বাবা জয় প্রকাশ পাল ও মা কৃষ্ণা রাণী। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে নিয়ে যান তারা। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয় জটিল অস্ত্রোপচার। সফলভাবে আলাদা করা হয় মনি-মুক্তাকে। এ অস্ত্রোপচার বাংলাদেশের চিকিৎসা ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে লেখা হয়।

আজ বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে বেড়ে উঠছে মনি-মুক্তা। দুজনেই স্থানীয় ঝাড়বাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। শুধু পড়াশোনা নয়; নাচ, গান, ছবি আঁকা ও কাপড়ে পেইন্টিংয়ে তারা সমান দক্ষ। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাদের নাম উচ্চারণ করা হয় গর্বের সঙ্গে।

ভাই জয় প্রকাশ পাল বলেন, মনি-মুক্তা পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। পাশাপাশি নাচ, গান ও আঁকাআঁকিতে তাদের প্রতিভা গ্রামের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, তারা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করতে পারে।

মা কৃষ্ণা রাণী পাল বলেন, জন্মের পর সমাজের নানা কুসংস্কার আমাদের একঘরে করে দিয়েছিল। কিন্তু ভগবান ও চিকিৎসকদের আশীর্বাদে আজ তারা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে আছে। আমরা চাই, তারা বড় হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াক। যাদের একসময় সমাজ অভিশপ্ত বলেছিল, আজ তারা গ্রামের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

দেশবাসীর দোয়া চেয়ে মনি-মুক্তা বলেন, পড়াশোনা শেষে মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজের অসহায় অবহেলিত সেবা করতে চাই। দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা পেলে অবশ্যই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। জন্মদিন নিয়ে তারা আরও বলেন, এ বছর ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করা হবে। প্রতি বছরের মতো আত্মীয়স্বজন, সহপাঠীদের, পাড়া প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমরা জন্মদিন পালন করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *