
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : একসময় গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য ছিল তালগাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা। পরিবেশের পরিবর্তন, তালগাছ কমে যাওয়া ও কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে হারিয়ে যেতে বসেছিল সেই দৃশ্য। তবে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফের তালগাছে বাসা বাঁধছে বাবুই। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ, পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।
উপজেলার খট্টামাধবপাড়া, বোয়ালদাড় ও আলীহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক তালগাছে বাবুইয়ের বাসা দেখা গেছে। কোনো কোনো গাছে ঝুলছে ১০ থেকে ২০টিরও বেশি বাসা। সকাল-বিকেলে পাখির কিচিরমিচির আর বাসা তৈরির ব্যস্ততা নজর কাড়ছে পথচারীদের। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এলাকায় বাবুই পাখির বাসা তেমন দেখা যেত না। চলতি মৌসুমে তালগাছে আবারও বাসা বাঁধতে শুরু করেছে পাখিগুলো।
তাদের মতে, এটি প্রকৃতির জন্য ইতিবাচক খবর। তবে পাখির বাসা নষ্ট না করা এবং তালগাছ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সহকারী অধ্যাপক মুহেববুর রহমান বললেন, তালগাছ কেটে ফেলা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের কারণে একসময় বাবুই পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে কিছু এলাকায় পরিবেশ তুলনামূলক অনুকূলে থাকায় পাখিগুলো আবার ফিরে আসছে।
পাখিপ্রেমী মতিয়ার রহমান জানালেন, ‘তালগাছের ডালে ডালে বাবুইয়ের বাসা দুলতে দেখে সত্যিই মন ভরে যায়। পাখির কিচিরমিচির ও বাসা তৈরির দৃশ্য প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য। তালগাছসহ দেশীয় গাছ সংরক্ষণ করে পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে হবে।’
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান বলেন, ‘বাবুই পাখি কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে এরা ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বাবুইসহ অন্যান্য পাখির আবাসস্থল রক্ষায় পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন গাছ লাগানো জরুরি।’
তিনি জানান, পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে অন্তত এক হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সেসব বীজ থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুনতামির মামুন বললেন, ‘বাবুই পাখি জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা রয়েছে। বাবুইয়ের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে তাল, খেজুর, নারকেলসহ দেশীয় গাছ সংরক্ষণ ও বেশি করে রোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে পাখির বাসা নষ্ট করা ও তাদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’