মুহাম্মদ আবু হেলাল, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে অপহরণের পর ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি শরীফ হাসান (২৭) এবং চুরি মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রফিকুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪, সিপিসি-১, জামালপুরের পৃথক আভিযানিক দল।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে শরীফ হাসানকে এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাজার রোড এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৪-এর প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানায় মামলা রয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে এক তরুণী বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে যাওয়ার সময় শরীফ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই তরুণী কৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন। অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শেরপুরের শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা করেন। আদালতের আদেশে গত ১২ অক্টোবর নালিতাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত হয়। এরপর থেকে শরীফ গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রেস রিলিজে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিনে রাত পৌনে ১০টার দিকে এসআরবি-১৪-এর অপর একটি আভিযানিক দল ঢাকার উত্তরা ইউনিটের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
প্রেস রিলিজের তথ্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ঝাওরাপাড়া কাপাসিয়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে। তিনি ভালুকা থানার ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির একটি চুরি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রেস রিলিজে জানানো হয়।