দুই সপ্তাহ পর শুটিংয়ে ফিরছেন টাইগার

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ শুটিংয়ে ফিরছেন।

নিরাপত্তার কারণে শুটিংয়ের তারিখ ও স্থান সম্পূর্ণ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেটে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হচ্ছে। টাইগারের যাতায়াতের পথ ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী মাসে দীপাবলি উদ্‌যাপনের পর আসন্ন সিনেমা ‘লাগ যা গলে’র শুটিংয়ে অংশ নেবেন টাইগার।

রাজ মেহতা পরিচালিত এবং ধর্ম প্রোডাকশনসের প্রযোজনায় এই অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হয় চলতি মাসের শুরুতে। গত এপ্রিলে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় দৃশ্যধারণ পিছিয়ে যায়। এবার ১০ দিনের মধ্যে শুটিং শেষ করা হতে পারে।

কী ঘটেছিল ১৮ অক্টোবর

গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহুর পুষ্প পার্কের কাছে ফুটবল খেলে ফিরছিলেন টাইগার। পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়েন হামলাকারীরা। এতে টাইগারের গাড়িচালক ও পথের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। টাইগার নিজেই গাড়ি চালিয়ে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হামলার ছক যেমন ছিল

হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে বেড়াতে আসা ব্যক্তির পরিচয়ে একটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলে করে শহরে ২০ দিন ধরে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

শহরে অবস্থানের সময় আন্ধেরি ইস্টের চার থেকে পাঁচটি হোটেল বদলেছিলেন তাঁরা। পুলিশের অনুমান, নজর এড়াতেই বারবার থাকার জায়গা পরিবর্তন করা হয়েছিল।

পুলিশ জানতে পেরেছে, রেকি করে তাঁরা বুঝতে পারেন, সালমান খান এতটাই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে থাকেন যে তাঁর কাছে পৌঁছানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা বুঝতে পারেন, টাইগার শ্রফের সঙ্গে সালমানের মতো কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে না। তখন তাঁরা লক্ষ্য পরিবর্তন করেন। টাইগারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে থাকেন।

টাইগার যে ওই স্টেডিয়ামে আছেন, সেই তথ্য হামলাকারীরা পেয়েছিলেন একজন অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে। এর আগে ১১ অক্টোবর তাঁরা অভিনেতাকে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু সেদিন অভিনেতা সেখানে যাননি।

এরপর শনিবার তাঁরা অস্ত্র হাতে পান এবং রোববার গুলি চালান। সেদিন অস্ত্রধারীরা সাতটি গুলি ছোড়েন। আরও গুলি চালানোর চেষ্টা করলে একটি বন্দুকে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে তাঁরা পালিয়ে যান।

হামলায় দেশি ও বিদেশি—দুই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে হামলাকারীদের ব্যবহৃত বিদেশি অস্ত্রটির নির্দিষ্ট মডেল বা কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পুলিশ তেমন তথ্য জানতে পারেনি।

টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর মুম্বাই থেকে পালানোর সময় হামলাকারীরা একটি অজ্ঞাত স্থানে অস্ত্র দুটি ফেলে দেন। মুম্বাই পুলিশ এখন সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার জন্য অস্ত্রধারীদের ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর বাকি এক লাখ রুপি পরিশোধ এবং বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল তাঁদের।

টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দিন, রোববারই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও বার্তা সামনে আসে। সেখানে এক ব্যক্তিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মত।

“পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যেই আমাদের সাথে তাল না মিলিয়ে কাজ করবে, কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এটিই প্রথম এবং শেষ সতর্কতা।”

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলাকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিলেন সালমান খান। তাঁরা সালমানের বান্দ্রার বাসভবন ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টস’-এর আশপাশে রেকি করেছিলেন। কিন্তু সেখানকার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন।

এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সালমানের ঘনিষ্ঠজনদের ওপর হামলা চালিয়ে বলিউডে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুলনামূলক কম নিরাপত্তায় থাকা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানো হয়।

সালমান খানের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর হামলাকারীরা আমির খান, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার ও সঞ্জয় দত্তের বাড়িতেও রেকি করেন।

এই হামলার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে পরিকল্পনাকারীদের দেড় লাখ রুপিতে চুক্তি হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *