👁 791 Views

বিদেশি ওষুধের ওপর ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় না এমন সব বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে ওই শুল্ক এড়াতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা ওষুধের ওপর শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণা এল।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই শুল্কের লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো।

বিবিসি লিখেছে, এই মুহূর্তে এ পদক্ষেপের গুরুত্ব অনেকটাই প্রতীকী। কারণ এটি জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

অনেক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছে, ফলে তারা এই শুল্ক থেকে রেহাই পাবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কোম্পানি এমন চুক্তি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক শন সুলিভান বলেন, “বাকি কোম্পানিগুলোকে দরকষাকষির টেবিলে আনাই হচ্ছে লক্ষ্য। সবকিছুই দর কষাকষির বিষয়।”

হোয়াইট হাউস জানায়, যেসব কোম্পানি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উৎপাদন শুরুর প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ওষুধে মাত্র ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

যদি কোম্পানিগুলো সরকারের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণে চুক্তি করে, তাহলে শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। ইতোমধ্যে হওয়া চুক্তিগুলোতে কোম্পানিগুলো তাদের কিছু ওষুধ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি, যেমন মেডিকেইড-এ নির্দিষ্ট বিদেশি বাজারের সমান দামে বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, গত বছর ইউরোপ, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় নির্ধারিত কম শুল্কও যুক্তরাষ্ট্র বহাল রাখবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে সম্মত হয়, যাতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ওষুধ শুল্কমুক্ত রাখা হয়।

ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য তাদের এনএইচএসের মাধ্যমে ওষুধের জন্য বেশি মূল্য পরিশোধ করবে, বিনিময়ে যুক্তরাজ্যে তৈরি ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সরকার এই অংশীদারত্বকে ‘ব্রিটিশ রোগী, ব্রিটিশ ব্যবসা এবং ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য একটি বিজয়’ বলে বর্ণনা করেছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে নতুন চিকিৎসা চালুর জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর ‘আরও শক্তিশালী প্রণোদনা’ পাবে, যার ফলে রোগীরা নতুন ক্যান্সার চিকিৎসার মত সুবিধা দ্রুত পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বড় কোম্পানিগুলোকে প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি করতে ১২০ দিন সময় দেওয়া হবে, আর ছোট ও মাঝারি কোম্পানির জন্য সময় থাকবে ১৮০ দিন।

তিনি বলেন, “তারা যথেষ্ট সতর্কবার্তা পেয়েছে, তাই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং বাস্তবায়ন করছি।”

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো এবং তাদের সেন্টার অন হেলথ পলিসির পরিচালক রিচার্ড ফ্র্যাঙ্ক বলেন, এই নির্দেশনার প্রভাব বিচার করা কঠিন, কারণ এর পরিসর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যেমন কতগুলো ওষুধ ছাড় পেতে পারে এবং কত কোম্পানি শেষ পর্যন্ত চুক্তি করবে, তা এখনো অজানা।

তার ভাষ্য, বড় অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে চুক্তি করলেও ছোট কোম্পানিগুলো শুল্কের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা তাদের খরচ বাড়াতে পারে।

“এ ধরনের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়, আসল বিষয়টা লুকিয়ে থাকে বিস্তারিত অংশে—প্রেস বিজ্ঞপ্তি ভালো শোনালেও বাস্তবে তা ভিন্ন হতে পারে।”

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে আরও উৎপাদন দেখতে চায়। তবে এতে সাধারণত খরচ বাড়ে। আর মূল্য নির্ধারণের চুক্তি খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘোষিত চুক্তিগুলো খুব সীমিত পরিসরের।

হোয়াইট হাউস বলছে, শুল্কের হুমকির ফলে ওষুধ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির পরে কম শুল্কের সুযোগ আর থাকবে না।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর আরোপিত শুল্কের শর্ত কিছুটা পরিবর্তন করছে। যেসব পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধাতু নেই, সেগুলোর ওপর ধাতব শুল্ক আরোপ বন্ধ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *