👁 364 Views

কুয়াকাটা সৈকতে আবার ভেসে এসেছে ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত  তিমি।।

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সংলগ্ন কাউয়ার চর সমুদ্র সৈকতে আবার ভেসে এসেছে ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত তিমি। বেলিন প্রজাতির তিমি টি আজ দুপুরের জোয়ারে ভেসে এসে সৈকতের বালুতে আটকে পড়ে। এক সপ্তাহ আগে এটি মারা যাওয়ায় তিমিটির শরীরে পঁচণ ধরেছে।

গত তিন জুন কুয়াকাটায় ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের আরও একটি তিমির মরদেহ ভেসে আসে। যেটি সৈকতে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। আজ ভেসে আসা তিমিটিও মাটি চাপা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক  কেএম বাচ্চু জানান, ট্যুর গাইড তরিকুল ইসলাম প্রথম মৃত তিমিটি দেখতে পান এবং বিষয়টি তাদের অবহিত করেন। পরে বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৬ ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তাদের দাবি, একেরপরএক কেন তিমি মারা যাচ্ছে এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আবুল হোসেন রাজু বলেন,তারা খবর পেয়ে তিমিটি উদ্ধার করেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন। এভাবে তিমি, ডলফিন,  কচ্ছপ মারা যাচ্ছে সমুদ্রে। কেন, কী কারণে মারা যাচ্ছে তার কোন কারন এখনও বের করতে পারেনি গবেষকরা। আজ উদ্ধার হওয়া তিমির কংকালটি কুয়াকাটায় পর্যটকদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করা উচিত। এতে পর্যটকরা পরিবেশ ও সামুদ্রিক  প্রানী বৈচিত্র্য জানতে পারবে।

উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ২০১৮ ও ২০২২ সালে একটি করে এবং চলতি বছরের ৩ জুন আরেকটি মৃত তিমি কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছিলো। যা সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয়ের লক্ষণ বলে তারা ধারণা করছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার সাংবাদিকদের বলেন, বাহ্যিক এটি একটি বেলিন তিমি। এ ধরনের তিমি সমুদ্রের প্ল্যাঙ্কটন ও ক্ষুদ্র অণুজীব ছেঁকে খাদ্য গ্রহণ করে। সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, অসুস্থতা, খাদ্যের সংকট, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

এদিকে তিমি উদ্ধারের খবর পেয়ে পর্যটকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন কাউয়ার চর সৈকতে ভীড় করছে।  তিমিটির শরীর পঁচে যাওয়ায় এটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।  তাই বন বিভাগ, পরিবেশ কমী ও উপরা সদস্যরা তিমিটিকে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসীন সাদেক জানান, তিনি খবর পেয়ে বন বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন এটি উদ্ধার করে মাটি চাপা দেয়ার জন্য।  তাদের সহায়তা করছে উপরা সদস্যরা। তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *