
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ এবং বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার মানবিক বিভাগে মাত্র একজন ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমাধ্যমিক শাখায় শিক্ষক রয়েছেন আটজন।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাসসহ মানবিক বিভাগের মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি বা বেতন-ভাতা চালু হয়নি। এ কারণে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, নামমাত্র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও অনেকে অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।
পাউশগাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া জানান, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমোদন পায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক শাখায় আটজন শিক্ষক যোগদান করেন। তবে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সম্প্রতি তাঁদের অনেকেই নিয়মিত পাঠদান করতে আসেন না।
অন্যদিকে, বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম বলেন, এবার মানবিক বিভাগ থেকে দুই শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে গিয়েছিল। এ কারণে এমন ফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিপক কুমার প্রামাণিক বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। দুঃখজনকভাবে তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিষয়টি হতাশাজনক। খোঁজখবর নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।