
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চললেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানালেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরানের কথিত ‘ছায়া বহরের’ ১৭টি জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এসব জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে ইরান সংঘাত আবার তীব্র হয়ে ওঠা এবং এর প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনে। এমন পরিস্থিতি নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে এসেছে বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডের একটি শিপইয়ার্ডে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এখনও কাজ শেষ করা বাকি।
নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর ঘোষণা এলেও ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিকল্পগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালি সচল রাখার বিষয় নিয়ে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া আগের একটি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর ওয়াশিংটন পাল্টা প্রস্তাব পাঠায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফলে আপাতত সামরিক হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা এলেও অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।