
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ
চার মাস বয়সী ফুটফুটে মাহিন ইসলাম আনাস। এখনও মায়ের দুধই তার মূল খাবার। জন্মের পর মায়ের কোলই তার একমাত্র ভরসা। চুরির অভিযোগ উঠেছে মায়ের ভাই মামা জিয়ারুল ইসলাম (২৩) বিরুদ্ধে। একদিন আগে (রবিবার) ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন দিনাজপুরে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয়রা জিয়ারুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পরে, সোমবার দিবাগত রাত ১টায় পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির পিতা পার্বতীপুর মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এ শিশু চুরি ও পাচারের অভিযোগে জিয়ারুল ইসলাম ও মিলন আসামীসহ আরও ৬/৭ অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬। আজ সোমবার বিকেলে দিনাজপুর জেল হাজতে পাঠিয়েছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ।
পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক পিন্টু কুমার দাস জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে শিশু আনাসকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর থানা ও পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয়। পুলিশের দাবি, ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বেচা হয়েছিল। এর পিছনে শিশু পাচারকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সুত্র বলছে, গত রবিবার (৫ অক্টোবর) রাত ১টায় মমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে নানির বাড়ি থেকে চার মাস বয়সী মাহিন ইসলাম আনাছ চুরি হয়। মামা জিয়ারুল ইসলাম দিনাজপুর অপহরণ করে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি নিউ টাউনের মনির হোসেন কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল। শিশুটির বাবার নাম আল আমিন ও মা মনিরা বেগম।
মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর সদর থানা ও পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ সহযোগিতায় শিশু আনাসকে উদ্ধার করা করেছে। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা রবিবার (৫ অক্টোবর) রাতে জিয়ারুল ইসলামকে আটক করে পার্বতীপুর মডেল থানায় সোপর্দ করেন।
এব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আঃ ওয়াদুদ বলেন, পুলিশের একটি টিম ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে চুরি ও পাচারের অভিযোগে মামা জিয়ারুল ইসলাম গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। থানায় জিয়ারুল ও মিলনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬।