👁 345 Views

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অকুতোভয় জুলাই যোদ্ধা আজিজুর রহমানের সাক্ষাৎ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মাথায় গুলির ক্ষত ও শরীরে ৩৬টি স্প্লিন্টারের চিহ্ন বহনকারী জুলাই আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা শেখ আজিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

এ সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তে মাথায় আঘাত পান শেখ আজিজুর রহমান, তখন রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক রক্তমাখা পতাকাটি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন এই জুলাই যোদ্ধা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুরের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

সুজন মাহমুদ জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের সংগ্রাম, কষ্ট ও আত্মত্যাগের কথা শোনেন। তিনি আজিজুর কীভাবে আহত হন, তাঁর লেখাপড়া, সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহনের সংগ্রাম এবং বর্তমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আজিজুরের কঠোর জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানান এবং ব্যথিত হন।

প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা পতাকাটি উপহার দিয়ে আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমার কষ্টের কথা তিনি নিজে শুনেছেন এবং খোঁজখবর নিয়েছেন। এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এই রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা আমার বহুদিনের ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি প্রিয় জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন। এতে পতাকাটি তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়। রক্তভেজা শরীর নিয়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান।

ত্যাগ ও বীরত্বের নজির স্থাপন করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে টানা দুই বছর তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হয়ে তাঁকে সিএনজি চালাতে হয়েছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে আজিজুরের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের পথ সুগম হলো।

সূত্র:বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *